মিশরীয় ফুটবলের সদ্য আবিষ্কৃত রত্ন হামজা আবদেলকারিমকে ঘিরে ইউরোপিয়ান ফুটবল বিশ্বে যে আকর্ষণ তৈরি হয়েছে, তা হালকাভাবে দেখলে ভুল হবে। বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, এসি মিলানের মতো ক্লাবগুলোর নজরে থাকা মানেই এই কিশোর আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ভবিষ্যতের বড় তারকা হয়ে উঠতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বার্সেলোনা।
বার্সা দীর্ঘদিন ধরেই মেসি-সুয়ারেজ-নেইমারের যুগের পর আক্রমণভাগে নতুন ধার খুঁজছে। এই সময়ে তারা তরুণ প্রতিভা সংগ্রহে বিশেষ জোর দিচ্ছে। পেদ্রি, গাভি, লামিন ইয়ামাল—এদের সাফল্য দেখেই বার্সা আরও প্রতিভা যুক্ত করতে চাইছে। এবার তাদের নতুন লক্ষ্য—মিশরের এই বিস্ময়বালক।
হামজা আল আহলির যুবদল থেকে উঠে এসেছে খুব দ্রুত। মাত্র কয়েক মাস আগে তাকে প্রথম দলে সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত আলোচনায় জায়গা করে নেয় সে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে চমকপ্রদ খেলার পর। সেখানে গোল, অ্যাসিস্ট, আক্রমণ গঠন—সবদিকেই সে ছিল আলোচনায়।
ইউরোপের একাধিক ক্লাব তাকে পর্যবেক্ষণ করছিল। তবে বার্সেলোনার স্কাউটরা তাকে সরাসরি কাতারে দেখে মুগ্ধ হন। তারপরই শুরু হয় গোপন আলোচনার এক সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া। দ্রুতই বার্সা বুঝে যায়—এই প্রতিভাকে দেরি করলে হারাতে হতে পারে। ফলে তারা আলোচনা ত্বরান্বিত করে।
আল আহলির শর্ত সহজ নয়। তারা শুধু ধার নয়, চাইছে—
নিশ্চয়তা সম্পন্ন ফি
পারফরম্যান্স বোনাস
ভবিষ্যতে বিক্রি হলে শতাংশ
অনেকটা লাস পালমাস থেকে পেদ্রিকে আনার মতো মডেল। বার্সেলোনাও এতে আগ্রহী, কারণ তারা দেখেছে—দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি তরুণ খেলোয়াড়কে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
বায়ার্ন ও মিলান আগ্রহ দেখালেও হামজার মন বার্সায়। তার বাবাও চাইছেন ছেলে স্পেনে গিয়ে বড় ফুটবল সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠুক। এ কারণে অন্যান্য ক্লাবের আলোচনা বাতিল হয়ে যায়।
এদিকে বার্সেলোনা হামজাকে শুধু যুব দলে নয়, মূল দলের গ্রীষ্মকালীন প্রস্তুতি ক্যাম্পে রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এতে বোঝা যায়, তারা এই তরুণকে ভবিষ্যতের “মেইন স্ট্রাইকার” হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, হামজার খেলার স্টাইল অনেকটা আধুনিক ইউরোপিয়ান ফরোয়ার্ডদের মতো। সে নিচে নেমে বল ধরে রাখতে পারে, আক্রমণ গঠন করতে পারে, ফিনিশিং করতে পারে—এমন খেলোয়াড় বর্তমান সময়ে খুবই চাহিদাসম্পন্ন। তাই তার ইউরোপে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক।