বার্সেলোনা যেন উড়ছে। গত সপ্তাহগুলোতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৮ ম্যাচ টানা জয়ের ধারা ধরে রাখা কাতালান ক্লাবটি এবার স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে পা রাখল আরও এক ঝলক দেখিয়ে। বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনাল ম্যাচে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৫-০ গোলে হারিয়ে বার্সা প্রমাণ করল তাদের আধিপত্য।
বার্সার সাবেক কোচ এর্নেস্তো ভালভার্দের অধীনে বিলবাও চলতি মৌসুমে কিছুটা চাপে ছিল। লা লিগায় তারা শীর্ষ ছয়ের বাইরে অবস্থান করছে, আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকেও বিদায়ের শঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে এমন বড় ব্যবধানে জেতা স্বাভাবিকভাবেই বার্সার জন্য। তবে কোচ হানসি ফ্লিকের দল যে ১৬ মিনিটেই প্রথমার্ধে ৪ গোল করতে পারবে, তা কেউ ভাবতে পারত না।
ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিল সুইডিশ স্ট্রাইকার রুনি বার্দাগি। লামিন ইয়ামালকে বেঞ্চে রেখে নেমে রুনি পুরো খেলায় আলো ছড়িয়ে দিলেন। তিনি নিজে এক গোল করেছেন এবং দুইটি গোলের অ্যাসিস্ট দিয়েছেন রাফিনিয়ার জন্য। ভাগ্য সহায় থাকলে আরও দুইটি অ্যাসিস্টও রুনির পোর্টফোলিওতে যোগ হতো।
গোলের বিবরণ:
| মিনিট | গোলদাতা | সহায় (অ্যাসিস্ট) | লক্ষ্যবিবরণ |
|---|---|---|---|
| 22′ | ফেরান তেরেস | রুনি বার্দাগি | ডান পাশ থেকে আক্রমণ, লোপেজের কাছে থেকে গোল |
| 33′ | রুনি বার্দাগি | নিজস্ব | একক দারুণ নৈপুণ্যে গোল |
| 38′ | রাফিনিয়া | রুনি বার্দাগি | রাফিনিয়ার কাছে পাস, শট সম্পন্ন |
| 51′ | রাফিনিয়া | রুনি বার্দাগি | তার পা ছুঁয়ে গোল, বার্সার পঞ্চম গোল |
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৪ গোল করে বার্সা প্রমাণ করল, খেলার গতিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। দ্বিতীয়ার্ধেও দলের আক্রমণাত্মক রূপ অব্যাহত থাকে, যা শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে।
এবার বার্সা অপেক্ষায় আছে অন্য ফাইনালিস্টের জন্য। আজ রাতে মাদ্রিদ ডার্বি ম্যাচে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। যে দল জিতবে, আগামী ১২ জানুয়ারি ফাইনালে তার বিপক্ষে মাঠে নামবে বার্সা।
বার্সার এই জয়ের পর কোচ হানসি ফ্লিক এবং তার দল দলের আক্রমণাত্মক শক্তি, দ্রুত পাসিং এবং মাঠে শারীরিক গতি নিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। ফুটবল প্রেমীদের জন্য এটি ছিল এক মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী।
