রুবেন আমোরিম অধ্যায়ের আকস্মিক সমাপ্তির পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডাগআউটে কে বসবেন—এই প্রশ্নে কয়েক সপ্তাহ ধরেই জল্পনা-কল্পনার শেষ ছিল না। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছে ওল্ড ট্রাফোর্ড কর্তৃপক্ষ। ক্লাবেরই ‘ঘরের ছেলে’ মাইকেল ক্যারিকের ওপর আস্থা রেখে ২০২৫–২৬ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ৪৪ বছর বয়সী সাবেক মিডফিল্ডার আবার ফিরছেন পরিচিত পরিবেশে, তবে এবার ভিন্ন ভূমিকায়—ডাগআউটের নেতৃত্বে।
মাঝখানে গুঞ্জন ছিল, সাবেক কোচ ওলে গুনার সুলশার হয়তো দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নিতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নরওয়েজিয়ান কিংবদন্তিকে নয়, ইউনাইটেডের বোর্ড ভরসা রাখল ক্যারিকের ওপর। সব আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ হলে আগামী শনিবারই ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ডার্বিতে ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে তাঁর অভিষেক হবে।
ক্লাবঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, ক্যারিকের সঙ্গে ইতিমধ্যেই নীতিগত সমঝোতা হয়েছে। এই চুক্তিতে তাঁকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী কোচিং স্টাফ গঠনের স্বাধীনতাও দেওয়া হচ্ছে। প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদা এবং ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স কয়েকজন সম্ভাব্য কোচের সঙ্গে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত ক্লাবের মালিক প্রতিষ্ঠান আইএনইওএসের প্রধান স্যার জিম র্যাটক্লিফ ক্যারিকের পক্ষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন। আমোরিম বরখাস্ত হওয়ার পর অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব সামলানো ড্যারেন ফ্লেচার এবার ব্যাটন তুলে দেবেন ক্যারিকের হাতে।
খেলোয়াড় হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ক্যারিকের অবদান কিংবদন্তিতুল্য। ১২ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ক্লাবটির হয়ে ৪৬৪ ম্যাচ খেলেছেন এবং জিতেছেন পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। কোচিং ক্যারিয়ারেও তিনি নবাগত নন। জোসে মরিনিও ও সুলশারের সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ২০২১ সালে তিন ম্যাচে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দুটিতেই জয় পেয়েছিলেন। পরে মিডলসবরোর কোচ হিসেবে তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়।
মাইকেল ক্যারিকের সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বয়স | ৪৪ বছর |
| ইউনাইটেডে ম্যাচ | ৪৬৪ |
| বড় শিরোপা | ৫ প্রিমিয়ার লিগ, ১ চ্যাম্পিয়নস লিগ |
| কোচিং অভিজ্ঞতা | ইউনাইটেড (সহকারী ও অন্তর্বর্তী), মিডলসবরো |
সাবেক সতীর্থদের সমর্থনও পাচ্ছেন ক্যারিক। মাইকেল ওয়েন মনে করেন, ক্লাবের সংস্কৃতি ও চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে আলাদা করে তুলবে। ওয়েইন রুনিও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে তিনি ক্যারিকের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার মুহূর্তে ইউনাইটেড চরম টালমাটাল অবস্থায়। সাম্প্রতিক সময়ে বার্নলির সঙ্গে ড্র এবং এফএ কাপে ব্রাইটনের কাছে হার দলটির সংকট আরও ঘনীভূত করেছে। লিগে সপ্তম স্থানে থাকা ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়নস লিগের জায়গা থেকে মাত্র তিন পয়েন্ট দূরে থাকলেও সামনে রয়েছে কঠিন সূচি—ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের মতো প্রতিপক্ষ।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন একটাই—ক্যারিক কি স্বল্পমেয়াদে হলেও ইউনাইটেডকে স্থিতিশীল পথে ফেরাতে পারবেন? তার উত্তর দেবে সময়, তবে আপাতত আশার আলো দেখছে ওল্ড ট্রাফোর্ড।
