চীনে ম্যাচ পাতানো ও দুর্নীতিতে ৭৩ জন নিষিদ্ধ

চীনা ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল ও কঠোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, সাবেক জাতীয় দলের প্রধান কোচ লি তিয়ে সহ মোট ৭৩ জনকে আজীবন ফুটবল কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করেছে চীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (সিএফএ)। একই সঙ্গে ১৩টি শীর্ষ পেশাদার ক্লাবকেও বিভিন্ন অর্থদণ্ড ও পয়েন্ট কর্তনের মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছে সিএফএ। এই ঘোষণা বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়।

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের অধীনে চীনের ফুটবলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযান পেশাদার ফুটবলে ঘুষ, জুয়া ও ম্যাচ পাতানোর মতো দূর্নীতির প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করেছে।

সিএফএ জানিয়েছে, তাদের ‘পদ্ধতিগত পর্যালোচনা’ ও তদন্তের পর এসব শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনটি স্পষ্ট করে বলেছে, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ফুটবলের পরিবেশকে পরিশুদ্ধ করা এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করাই শাস্তির মূল উদ্দেশ্য।

লি তিয়ে, যিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত চীনের জাতীয় দলের কোচ ছিলেন, ইতোমধ্যেই ঘুষ নেওয়ার দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই তাঁকে এই সাজা প্রদান করা হয়। লি তিয়েকে ছাড়াও ৭২ জন ফুটবলের বিভিন্ন কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও সহায়ক স্টাফকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে সিএফএর সাবেক চেয়ারম্যান চেন শুয়ুয়ানও, যিনি ১ কোটি ১০ লাখ ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন।

শীর্ষ লিগের ১৩টি ক্লাবকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ মৌসুমে চায়নিজ সুপার লিগে অংশ নেওয়া ১৬টি ক্লাবের মধ্যে ১১টির পয়েন্ট কাটা হবে এবং জরিমানা করা হবে। এর ফলে ২০২৬ সালের মার্চে নতুন মৌসুম শুরু হলে ৯টি দল নেতিবাচক পয়েন্ট নিয়ে লিগে নামবে।

নিচের টেবিলে কিছু শীর্ষ ক্লাবের শাস্তি দেখানো হলো:

ক্লাবের নামপয়েন্ট কাটাজরিমানা (ইউয়ান)জরিমানা (USD আনুমানিক)
তিয়ানজিন জিনমেন টাইগার১০১০,০০,০০০১,৪৪,০০০
সাংহাই শেনহুয়া (রানার্সআপ)১০১০,০০,০০০১,৪৪,০০০
সাংহাই পোর্ট (গত তিন মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন)৪,০০,০০০৫৭,৬০০
বেইজিং গোয়ান৪,০০,০০০৫৭,৬০০

সিএফএ স্পষ্ট করেছে, ক্লাবগুলোর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে তাদের অপরাধের প্রকৃতি, লেনদেনের পরিমাণ ও সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে। তবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

চীনের অনেক পেশাদার ক্লাব বর্তমানে আর্থিক সংকটে রয়েছে। গুয়াংজু এফসি, চায়নিজ সুপার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সফল ক্লাব, গত বছর আর্থিক সমস্যার কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ফুটবলের একজন প্রবল সমর্থক এবং তাঁর লক্ষ্য চীনের ফুটবলকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যে একদিন দেশটি বিশ্বকাপ আয়োজন করবে এবং জিতবে। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে চীনের যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

সিএফএ সতর্ক করেছে, ফুটবলে শৃঙ্খলা বা নিয়ম ভঙ্গের কোনো ঘটনা ধরা পড়লে ‘শূন্য-সহনশীলতা নীতি’ অনুযায়ী কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Comment