ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের সুপারস্টার নেইমারের আন্তর্জাতিক প্রত্যাবর্তন আপাতত স্থগিত রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য দুটি প্রীতি ম্যাচে নেইমারকে দলে ডাকবেন না।
নেইমার দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি সান্তোস ক্লাবের হয়ে খেলার মাধ্যমে ফিটনেস ফিরে পেতে শুরু করেছেন। তবে আনচেলত্তি চান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলায় অংশ নেওয়ার আগে নেইমার ক্লাব পর্যায়ে ধীরে ধীরে তার ছন্দ ও শারীরিক সক্ষমতা পূর্ণরূপে ফিরে পান।
ব্রাজিলের মার্চের প্রীতি ম্যাচের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। এই ম্যাচগুলোতে কোচ আনচেলত্তি নতুন এবং বিকল্প খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করার পাশাপাশি দলে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য বজায় রাখতে চান।
মার্চের প্রীতি ম্যাচ সূচি (২০২৬)
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | স্থান | লক্ষ্য |
|---|---|---|---|
| ২০২৬-০৩-২০ | ফ্রান্স | মিয়ামি, যুক্তরাষ্ট্র | নতুন ও বিকল্প খেলোয়াড়দের পরীক্ষা |
| ২০২৬-০৩-২৩ | ক্রোয়েশিয়া | শার্লট, যুক্তরাষ্ট্র | দলীয় সমন্বয় ও প্রস্তুতি |
কোচিং স্টাফ এবং মেডিকেল টিম নেইমারের ফিটনেস ও পুনরুদ্ধারের উপর নিবিড় নজর রাখছে। মৌসুমের শেষভাগে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল দলের লক্ষ্য হলো অভিজ্ঞতা ও যুব খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করা। তাই নেইমারের প্রত্যাবর্তনকে যথাসম্ভব সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আনচেলত্তির এই কৌশল মূলত বিশ্বকাপের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং শক্তিশালী দল গড়ে তোলার প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেইমারের অভিজ্ঞতা দলের জন্য অপরিসীম মূল্যবান, কিন্তু তার সম্পূর্ণ ফিটনেস ছাড়া খেলানো বিপদজনক হতে পারে। এই কারণে কোচ আনচেলত্তি ঝুঁকি এড়িয়ে ধাপে ধাপে তার অন্তর্ভুক্তি করতে চাইছেন।
নেইমারের অনুপস্থিতিতে মার্চের ম্যাচগুলো হবে নতুন খেলোয়াড়দের প্রমাণ করার এক সুবর্ণ সুযোগ। বিশেষত আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড ও ফরোয়ার্ড লাইনে নতুন প্রতিভাদের পরীক্ষা করার মাধ্যমে ব্রাজিল দলে গভীরতা তৈরি হবে, যা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে।
