প্রায় ছয় দশক ধরে বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপাহীন ইংল্যান্ড ফুটবল দল আবারও সেই দীর্ঘ খরা ঘোচানোর লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ‘থ্রি লায়ন্স’ শিবিরে প্রত্যাশা ও হতাশার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বহুবার। এই প্রেক্ষাপটে দলের নতুন কোচ টমাস টুখেল একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন, যা দলগত ঐক্য জোরদারের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত।
আগামী বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দল শিরোপা জিততে পারলে দলের প্রতিটি সদস্য একটি বিশেষ স্মারক ট্যাটু করাবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন টুখেল। এই পরিকল্পনা শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ, এমনকি ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এর অন্তর্ভুক্ত। দলের বিশ্বকাপ ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় যুক্ত একজন ফিফা কর্মকর্তাও এই উদ্যোগে অংশগ্রহণে সম্মতি জানিয়েছেন।
এই তথ্যটি প্রকাশ করেন অ্যালান ডিট্রিখ, যিনি স্পোর্টিং কানসাস সিটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এবং ইংল্যান্ড দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তুতিমূলক সফরের সময় টুখেল এই পরিকল্পনা প্রথম ভাগ করে নেন তাঁর সঙ্গে এবং ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী জেক রিডের সঙ্গে। আলোচনার সময় টুখেল সরাসরি প্রশ্ন রাখেন, দলের সাফল্যের অংশীদার হিসেবে তারাও এই প্রতীকী উদ্যোগে অংশ নেবেন কি না। ডিট্রিখ ও রিড, যারা আগে কখনো ট্যাটু করাননি, তাতেই সম্মতি দেন।
প্রস্তাবিত ট্যাটুর নকশায় থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীক এবং ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী উপাদান। এটি দলগত সাফল্যের একটি স্থায়ী স্মারক হিসেবে বিবেচিত হবে।
ফুটবল জগতে ট্যাটু নতুন কিছু নয়। বড় শিরোপা জয় বা পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে খেলোয়াড়রা প্রায়ই ট্যাটু করিয়ে থাকেন। উদাহরণ হিসেবে ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দুই খেলোয়াড় মিলি ব্রাইট ও র্যাচেল ড্যালি নিজেদের মধ্যে বিশেষ প্রতীকী ট্যাটু করিয়েছিলেন। তবে জাতীয় দলের পুরো স্কোয়াড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এমন সম্মিলিত ট্যাটুর অঙ্গীকার ফুটবল ইতিহাসে বিরল।
টুখেলের মতে, জাতীয় দলে খেলোয়াড়রা ভিন্ন ভিন্ন ক্লাব থেকে আসেন, যেখানে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। এই বিভাজন দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবেশ তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর এই উদ্যোগ সেই মনস্তাত্ত্বিক বাধা কমাতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে ইংল্যান্ড দলের ঘাঁটি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যদিও সেখানে দলের কোনো ম্যাচ নির্ধারিত নেই, তবু ভৌগোলিক সুবিধা, উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো এবং নিরাপত্তার কারণে এই শহরকে উপযুক্ত মনে করা হয়েছে। অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত হয়েছে সোয়োপ পার্ক, যেখানে উন্নতমানের বারমুডা ঘাস রয়েছে—যা বিশ্বকাপের ম্যাচ ভেন্যুগুলোর ঘাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নিচে পরিকল্পনার মূল দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| উদ্যোগ | বিশ্বকাপ জিতলে ট্যাটু করানো |
| অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি | খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ, কর্মকর্তা |
| ট্যাটুর নকশা | বিশ্বকাপ ট্রফি ও ইংল্যান্ডের প্রতীক |
| পরিকল্পনার উদ্দেশ্য | দলগত ঐক্য ও মানসিক সংযোগ বৃদ্ধি |
| ক্যাম্পের স্থান | কানসাস সিটি, যুক্তরাষ্ট্র |
| অনুশীলন ভেন্যু | সোয়োপ পার্ক |
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দলকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখানে প্রত্যেকে নিজেদের সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করবেন।
