দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরছে অস্ট্রিয়া। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দেশটি। এবারের আসরে এটি হতে যাচ্ছে অস্ট্রিয়ার অষ্টম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন প্রধান কোচ রালফ রাংনিক।
ঘোষিত স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। দলে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা এবং অস্ট্রিয়ার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মার্কো আর্নাউতোভিচ। এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ ক্লাবে খেলা একাধিক ফুটবলারও দলে জায়গা পেয়েছেন। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সঙ্গে একই গ্রুপে পড়েছে অস্ট্রিয়া। ফলে শুরু থেকেই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে দলটিকে।
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর টানা কয়েকটি আসরে মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছিল অস্ট্রিয়া। প্রায় তিন দশক পর দলটির এই প্রত্যাবর্তন দেশটির ফুটবল ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জার্মান কোচ রালফ রাংনিকের অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে দলটি নিজেদের সংগঠিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ইউনিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দল নির্বাচনে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ফিটনেস, ক্লাব পারফরম্যান্স এবং কৌশলগত ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দলের সবচেয়ে আলোচিত নাম ডেভিড আলাবা। রিয়াল মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডার দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রিয়ার ফুটবলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব রক্ষণভাগে স্থিতিশীলতা এনে দিতে পারে। ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মার্কো আর্নাউতোভিচ এবারও আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা। বর্তমানে রেড স্টার বেলগ্রেডের হয়ে খেলা ৩৭ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার অস্ট্রিয়ার হয়ে ১৩২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪৭টি গোল করেছেন, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার সক্ষমতা তাকে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
দলের রক্ষণভাগে আরও রয়েছেন কেভিন ডানসো, মার্কো ফ্রিডল ও ফিলিপ লিনহার্টের মতো খেলোয়াড়। মাঝমাঠে বায়ার্ন মিউনিখের কনরাড লাইমার, বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মার্সেল সাবিটজার এবং আরবি লাইপজিগের ক্রিস্টোফ বাউমগার্টনারের উপস্থিতি দলকে বাড়তি শক্তি দিয়েছে। ইউরোপের শীর্ষ লিগে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা অস্ট্রিয়ার মাঝমাঠকে আরও কার্যকর করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-তে অস্ট্রিয়ার প্রথম ম্যাচ আগামী ১৭ জুন। প্রতিপক্ষ নবাগত জর্ডান। বিশ্বকাপ অভিষেক হতে যাওয়া জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করবে রাংনিকের দল। দ্বিতীয় ম্যাচে ২২ জুন টেক্সাসে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়া। এই ম্যাচটি গ্রুপ পর্বের অন্যতম আলোচিত লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি।
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার উপস্থিতি নিঃসন্দেহে অস্ট্রিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে জর্ডান ও আলজেরিয়ার বিপক্ষে ইতিবাচক ফল অর্জন করতে পারলে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সে কারণে প্রতিটি ম্যাচই দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অস্ট্রিয়ার ঘোষিত ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে গোলকিপার হিসেবে রয়েছেন প্যাট্রিক পেন্টজ, আলেকজান্ডার শ্লেগার ও ফ্লোরিয়ান উইগেল।
ডিফেন্ডার হিসেবে রাখা হয়েছে ডেভিড আফেনগ্রুবার, ডেভিড আলাবা, কেভিন ডানসো, মার্কো ফ্রিডল, ফিলিপ লিনহার্ট, ফিলিপ ম্যুইনে, স্টেফান পশ, আলেকজান্ডার প্রাস ও মাইকেল স্ভোবোদাকে।
মিডফিল্ড বিভাগে রয়েছেন ক্রিস্টোফ বাউমগার্টনার, কার্নি চুকুয়েমেকা, ফ্লোরিয়ান গ্রিলিচ, কনরাড লাইমার, মার্সেল সাবিটজার, জাভার শ্লেগার, রোমানো শ্মিড, আলেসান্দ্রো শপ, নিকোলাস সিওয়াল্ড, পল ওয়ানার ও প্যাট্রিক উইমার।
ফরোয়ার্ড হিসেবে রাখা হয়েছে মার্কো আর্নাউতোভিচ, মাইকেল গ্রেগোরিচ ও সাশা কালাইজিচকে।
অভিজ্ঞতা, কৌশলগত ভারসাম্য এবং ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা একাধিক ফুটবলারের সমন্বয়ে গড়া এই দল নিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে অস্ট্রিয়া। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে তাদের এই প্রত্যাবর্তন ফুটবলবিশ্বে বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
