সৌদি প্রো লিগে নিজের প্রথম মৌসুমেই দারুণ সাফল্য পেয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবলার জোয়াও ফেলিক্স। মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ঘোষণা করা হয়েছে সৌদি প্রো লিগের মৌসুমসেরা খেলোয়াড়। একই দলে খেলেও এই পুরস্কারের দৌড়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন পর্তুগালের আরেক তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে।
মৌসুমের শেষ দিকে আল নাসরের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফেলিক্স ও রোনালদো দুজনই। দামাকের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে রোনালদোর জোড়া গোল আল নাসরের শিরোপা নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে আল হিলালকে দুই পয়েন্টে পিছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয় আল নাসর। সৌদি আরবে যোগ দেওয়ার পর এটি ছিল রোনালদোর প্রথম বড় শিরোপা।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো পুরো মৌসুমে ২৮ গোল করেন। গোলসংখ্যার বিচারে তিনি লিগের অন্যতম সফল খেলোয়াড় হলেও মৌসুমসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার শেষ পর্যন্ত গেছে ফেলিক্সের হাতে। কারণ গোল করার পাশাপাশি পুরো লিগে সর্বোচ্চ ১৩টি অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ২০ গোল ও ১৩ অ্যাসিস্টে আল নাসরের আক্রমণভাগে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন এই পর্তুগিজ তারকা।
চেলসি থেকে প্রায় ৩ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে এই মৌসুমেই আল নাসরে যোগ দেন ফেলিক্স। দুই বছরের চুক্তিতে সৌদি আরবে এসে প্রথম মৌসুমেই তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। মাঠে আক্রমণ সাজানো, সুযোগ তৈরি এবং গোল করার দক্ষতার কারণে দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি।
নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে শিরোপা জয়ের পর ফেলিক্স বলেন, ফুটবল খেলতে পারলেই তিনি আনন্দ পান, বিশেষ করে নিজের স্বাভাবিক পজিশনে খেলতে পারলে। তিনি জানান, কোচ তার ওপর অনেক আস্থা রেখেছিলেন এবং দলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কোচের বিশ্বাস পাওয়ায় মাঠের কাজ সহজ হয়ে গিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে আল নাসরের কোচ হোর্হে জেসুস সৌদি প্রো লিগের বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন। তবে পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি জানান, আল নাসরের সঙ্গে এটিই ছিল তার শেষ মৌসুম।
নিচে আল নাসরের দুই পর্তুগিজ তারকার মৌসুমের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—
| খেলোয়াড় | গোল | অ্যাসিস্ট | বিশেষ অর্জন |
|---|---|---|---|
| জোয়াও ফেলিক্স | ২০ | ১৩ | মৌসুমসেরা খেলোয়াড় |
| ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো | ২৮ | উল্লেখ নেই | আল নাসরের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা |
এই মৌসুমে আল নাসরের সাফল্যের পেছনে পর্তুগিজ ফুটবলারদের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। রোনালদোর অভিজ্ঞতা ও গোল করার ক্ষমতার সঙ্গে ফেলিক্সের সৃজনশীলতা দলকে আক্রমণে বাড়তি শক্তি দিয়েছে। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত আল নাসর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সক্ষম হওয়ায় শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিজেদের করে নেয়।
