মেক্সিকোতে অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ ইরানের

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের অবস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফিফার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে ইরানের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দলটি পুরো টুর্নামেন্ট চলাকালে মেক্সিকোতে অবস্থান করবে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সীমান্ত পারাপার সহজ করতে ফিফার পক্ষ থেকে বিশেষ ‘মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা আশা করছে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ইরান দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য এমন ভিসা ব্যবস্থা প্রয়োজন, যাতে তারা সহজে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে এবং ম্যাচ শেষে পুনরায় মেক্সিকোতে ফিরে যেতে পারেন। তার মতে, এ বিষয়ে ফিফার সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে।

মেহেদি তাজ বলেন, “ফিফার পক্ষ থেকে একটি মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার ব্যবস্থা করা হবে বলে আমরা আশা করছি। যাতে আমাদের খেলোয়াড়রা সহজে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে এবং আবার মেক্সিকোতে ফিরে আসতে পারেন।”

আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ‘টিম মেল্লি’ নামে পরিচিত ইরান জাতীয় দল শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুসন শহরে নিজেদের বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল। তবে পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দলটির অবস্থান মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর টিজুয়ানায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিয়ে জটিলতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন ইরান দলকে পুরো টুর্নামেন্ট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি দেয়নি বলে জানা গেছে। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মেক্সিকোকে বেছে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে গত সোমবার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউমও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ইরান দল মেক্সিকোতে অবস্থান করবে এবং ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলে আবার ফিরে আসবে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

ফিফা ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ইরানের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে ইরান। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে দলটি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৬ জুন সিয়াটলে, যেখানে প্রতিপক্ষ মিশর।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিরাপত্তাজনিত কারণ উল্লেখ করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ইরান দলকে আতিথেয়তা দিতে পারবে না। এই ঘোষণার পর ফিফা বিকল্প সমাধানের উদ্যোগ নেয় এবং মেক্সিকোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে সাধারণত প্রতিটি দল একটি নির্দিষ্ট বেস ক্যাম্পে অবস্থান করে, যেখানে তারা অনুশীলন, বিশ্রাম এবং ম্যাচ প্রস্তুতির কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে মেক্সিকোতে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনায় ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

মেক্সিকোর টিজুয়ানা শহর যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় তুলনামূলক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রতিটি ম্যাচের আগে ও পরে সীমান্ত পারাপার, ভিসা প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ভ্রমণ নীতিমালা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনাও বাড়ছে। এর মধ্যেই ইরান দলের মেক্সিকোতে অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা বিশ্বকাপ আয়োজনের বাস্তবতায় একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

Leave a Comment