নেইমার জুনিয়রের পর এবার চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চকে বিদায় জানালেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০২৬ বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ নকআউট ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে পর্তুগাল। আর এই পরাজয়ের সঙ্গেই চিরতরে শেষ হয়ে গেল ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ যুবরাজের বিশ্বজয়ের শেষ স্বপ্ন।
ম্যাচজুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা ও আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের রোমাঞ্চ। তবে স্পেনের জমাট রক্ষণ আর নিখুঁত পাসিং ফুটবল কৌশলের কাছে শেষ পর্যন্ত ভাঙেনি পর্তুগালের ডেডলক। ম্যাচের একমাত্র গোলটিই পর্তুগালকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয় এবং স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় পর্তুগালের ফরোয়ার্ডরা বেশ কয়েকটি সুবর্ণ সুযোগ পেলেও তা জালে জড়াতে ব্যর্থ হন।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে হাহাকার নেমে আসে পর্তুগাল শিবিরে। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ড্রেসিংরুমের টানেলে যাওয়ার পথে ক্যামেরায় ধরা পড়ে তার কান্নাভেজা মুখ। দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে মাঠ ছাড়ার সেই দৃশ্য মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয় ভেঙে দেয়।
২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে পর্তুগালের ফুটবলকে একা হাতে টেনেছেন সিআর সেভেন। ২০১৬ সালে পর্তুগালকে অধরা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতানো কিংবা ২০১৯ সালের নেশনস লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরা—সবখানেই ছিল তার একক আধিপত্য। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি নিজের করে নিলেও, ফুটবল ইতিহাসের এই মহানায়কের ক্যারিয়ারে সোনালী বিশ্বকাপ ট্রফিটা শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই ছিল রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই তারকার বিদায় এমন এক ট্র্যাজিক হারের মাধ্যমে ঘটবে, তা হয়তো কোনো ফুটবল অনুরাগী কল্পনাও করেননি। ট্রফি দিয়ে হয়তো রোনালদোর সর্বকালের সেরা শ্রেষ্ঠত্ব মাপা যাবে না, তবে বিশ্বমঞ্চে তার এই অশ্রুসিক্ত বিদায় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক বেদনাবিধুর ও আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে অমর থাকবে।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের এক নজরে পরিসংখ্যান:
যেহেতু সংবাদে প্রচুর পরিসংখ্যান বা ১০টির বেশি ডেটা পয়েন্টের আলাদা তালিকা নেই, তাই নিচে রোনালদোর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সামগ্রিক অর্জনের একটি বিবরণী দেওয়া হলো, যা তার অনন্য কীর্তিকে ফুটিয়ে তোলে:
আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক: ২০০৩ সাল (কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে)।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: সর্বমোট ৫টি বিশ্বকাপে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ এর এই আসর) অংশ নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক গোল: পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড তার দখলে।
প্রধান আন্তর্জাতিক ট্রফি: ২০১৬ উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ উয়েফা নেশনস লিগ।
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মান: ৫ বার ব্যালন ডি’অর জয়।
রোনালদোর এই বিদায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের একটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। বিশ্বমঞ্চে ট্রফি না পেলেও, ফুটবল মাঠে তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স এবং লড়াকু মানসিকতা আগামী প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য আজীবন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
