চলতি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও আফ্রিকার পরাশক্তি মিশর। রাউন্ড অফ ৩২-এর বৈতরণী পার হয়ে নকআউটের এই মহাযুদ্ধ মাঠে গড়ানোর আগেই ফুটবল বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে তুমুল উত্তেজনা। শিরোপাধারী আলবিসেলেস্তেদের মাঠের লড়াইয়ের আগেই একপ্রকার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে মিশরীয় শিবির। শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয় ফারাওরা।
রাউন্ড অফ ৩২-এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচ উপহার দিয়েছিল মিশর। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে খেলা অমিমাংসিত থাকার পর টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে তারা। স্নায়ুচাপের সেই মুহূর্তে দলের হয়ে জয়সূচক শেষ শটটি নিয়েছিলেন মিশরের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন মোহামেদ সালাহ। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড বেশ ভালো করেই জানেন, বয়স ও ক্যারিয়ারের সমীকরণ বিবেচনায় এটিই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ।
লড়াইয়ের আগে নিজের তাড়না লুকিয়ে রাখেননি সালাহ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত নই এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না। তাই প্রতিটা ম্যাচকেই ফাইনাল মনে করে মাঠে নামছি। সত্যি বলতে, এটিই আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচ হতে যাচ্ছে এবং সেই মানসিকতা নিয়েই আমি মাঠে নামব।”
সালাহর এই আত্মবিশ্বাস ও সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ ভরসা রাখছেন মিশরের টিম ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসান। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২৫৭ গোল করা এবং চারবার গোল্ডেন বুট জেতা সালাহকে অবহেলা করলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে মনে করিয়ে দেন তিনি। ইব্রাহিম হাসান বেশ আক্রমণাত্মক সুরেই বলেন, “আমরা মেসিকে নিয়ে আলাদা করে ভাবছি না। দলের ছেলেদের বলেছি, মাঠে নেমে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলো। প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে দাও তারা কাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। ওদের দলে মেসি থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের আছে সালাহ। ও একাই যেকোনো প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। আমার চোখে আমাদের স্কোয়াডের ২৬ জন ফুটবলারই একেকজন মেসি।”
মিশরীয় শিবিরের এমন হুংকার অবশ্য কানে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা শিবিরেও। তবে মাঠের বাইরে কথার লড়াইয়ে না গিয়ে প্রতিপক্ষকে সমীহ করছেন আর্জেন্টিনার মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনি। ইতিহাস বলছে, প্রতিপক্ষ ছোট হোক বা বড়, স্কালোনি কাউকেই কখনো হালকাভাবে নেন না। এই নকআউট ম্যাচের আগেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, “মিশর অত্যন্ত গোছানো ও কঠিন এক দল। তারা যোগ্য হিসেবেই এত দূর এসেছে। আমাদের সামনে আরও একটি কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আমাদের মাথায় কেবল একটি ভাবনাই কাজ করছে—যেকোনো মূল্যে ম্যাচটি জিততে হবে।”
মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার চিরচেনা খেলার ধরনে বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও, শুরুর একাদশে কিছু রদবদল হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন স্কালোনি। স্কোয়াডের গভীরতা ব্যবহার করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “কাদের নিয়ে একাদশ সাজাব তা মনে মনে ঠিক করে রেখেছি, তবে এখনই সেটি প্রকাশ করছি না। টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত যারা খেলার সুযোগ কম পেয়েছে, তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে মাঠে নামাতে পারি। তারা শারীরিকভাবে পুরোপুরি তরতাজা আছে, যা দলের গতি বাড়াতে সাহায্য করবে।”
টানা চার ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালের দোড়গোড়ায় পৌঁছালেও নিজের দলের কিছু ঘাটতি নিয়ে চিন্তিত স্কালোনি। বিশেষ করে রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচের উদাহরণ টেনে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, “আমরা আগের চারটা ম্যাচই জিতেছি, এটা অবশ্যই আনন্দের। কিন্তু শেষ ম্যাচে রক্ষণভাগের সময় খেলোয়াড়দের মধ্যে গতির অভাব স্পষ্ট ছিল। আর সেই সুযোগেই কেপ ভার্দে আমাদের ওপর চড়াও হওয়ার বল পাচ্ছিল। আমরা রক্ষণের সময়ও গতিশীল ফুটবল খেলতে অভ্যস্ত। মিশরের আক্রমণভাগ রুখতে হলে আজ আমাদের রক্ষণ ও মাঝমাঠের গতি আরও বাড়াতে হবে।”
