
সব হিসাব মিলিয়ে সেমিফাইনালে চার সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন: কার খেলা কখন?
কোনো অঘটন কিংবা নাটকীয়তা নয়, খাতা-কলমের হিসাব মিলিয়েই এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ চার পরাশক্তি। কাতার বিশ্বকাপের রেশ কাটিয়ে মাঠের লড়াইয়ে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলই পৌঁছে গেছে শেষ চারের মঞ্চে। র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলগুলো হলো—ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ইংল্যান্ড। বিশ্বমঞ্চের শেষ চারে এই চার দলের একসঙ্গে জায়গা করে নেওয়া ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে, কারণ এর আগে কখনো র্যাঙ্কিংয়ের ঠিক শীর্ষ চার দল এভাবে সেমিফাইনালের লাইন-আপ তৈরি করতে পারেনি।
এবারের সেমিফাইনালের আরেকটি রোমাঞ্চকর দিক হলো, শেষ চারে টিকে থাকা প্রতিটি দলই অতীতে অন্তত একবার হলেও সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছে। ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন কাকতালীয় ঘটনা এর আগে মাত্র দুইবার ঘটেছিল। প্রথমবার ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে এবং দ্বিতীয়বার ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে চার সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছিল। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর চলতি আসরে ফুটবলপ্রেমীরা আবারও এমন এক রাজকীয় সেমিফাইনাল দেখার সৌভাগ্য অর্জন করতে যাচ্ছেন, যেখানে কোনো ‘আন্ডারডগ’ বা চমক দেখানো দলের অস্তিত্ব নেই; আছে কেবলই প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তিদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।
প্রথম সেমিফাইনাল: ফ্রান্স বনাম স্পেন
ইউরোপীয় ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স ও স্পেন মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে। ডালাসের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়ামে আগামী ১৪ জুলাই দিবাগত রাত ১টায় (বাংলাদেশ সময় ১৫ জুলাই ভোর) এই মহারণ অনুষ্ঠিত হবে। কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স যেমন তাদের শক্তিশালী রক্ষণ ও গতিময় আক্রমণ দিয়ে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত, তেমনি স্প্যানিশ আর্মাডারা তাদের চিরচেনা পাসিং ফুটবল বা ‘টিকি-টাকা’ শৈলী দিয়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইবে। দুই ইউরোপীয় জায়ান্টের এই লড়াইকে অনেকেই ফাইনালের আগের ফাইনাল হিসেবেও গণ্য করছেন।
দ্বিতীয় সেমিফাইনাল: আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড
প্রথম সেমিফাইনালের রেশ কাটতে না কাটতেই পরের দিন ফুটবল বিশ্ব সাক্ষী হবে আরেক ঐতিহাসিক দ্বৈরথের। আটলান্টার স্টেডিয়ামে আগামী ১৫ জুলাই দিবাগত রাত ১টায় (বাংলাদেশ সময় ১৬ জুলাই ভোর) দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ফুটবলের জনক ইংল্যান্ড। এই দুই দলের ম্যাচ মানেই মাঠের ভেতরের ট্যাকটিকস আর মাঠের বাইরের পুরোনো রাজনৈতিক ও ফুটবলীয় বৈরিতার এক টানটান উত্তেজনা। ডিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরিরা যেমন চাইবেন শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ফাইনালে পা রাখতে, তেমনি হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামদের ইংল্যান্ড চাইবে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিশ্বমঞ্চের মুকুট পুনরুদ্ধার করতে।
সব মিলিয়ে, ডালাস এবং আটলান্টার এই দুটি রাত ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন কোনো মহাকাব্য লিখতে যাচ্ছে। চার দলের সামনেই সুযোগ রয়েছে নিজেদের ট্রফি ক্যাবিনেটে আরও একটি বিশ্বজয়ের স্মারক যোগ করার, তবে তার আগে পার হতে হবে সেমিফাইনালের এই কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।