
ইন্দোনেশিয়ার কাছে রেকর্ড ব্যবধানে হেরে আসিয়ান কাপ মিশন শেষ করল বাংলাদেশ
ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের মিশনটি বাংলাদেশের জন্য রূপ নিল এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে রক্ষণভাগে চার গোল হজম করার পর শেষ ম্যাচে আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতে জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের দল ৯-২ গোলের ব্যবধানে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে। টানা তিন ম্যাচে হেরে আসিয়ান কাপের এই আসর থেকে অত্যন্ত হতাশাজনকভাবে বিদায় নিলেন কোচ থমাস ডুলির শিষ্যরা।
গ্রুপ পর্বের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টে নিজেদের অভিযান শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপরের ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দল তুলনামূলকভাবে গোছানো এবং ভালো ফুটবল উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনতে ব্যর্থ হয়। রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা দেখানোর চেষ্টা করেও সেই ম্যাচে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাদের।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়ে একটি সম্মানজনক বিদায় নিশ্চিত করার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ দলের। ম্যাচের শুরুর দিকে খেলোয়াড়দের মধ্যে সুশৃঙ্খল ভাব এবং গোছানো মনোভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে সময় গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ।
খেলার মাত্র ১১ মিনিটে প্রথম আঘাত হানে স্বাগতিকরা। ওলে রোমেনির নিখুঁত পাস থেকে গোল করে ইন্দোনেশিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড লে বেকার। এর ঠিক নয় মিনিট পর আবারও ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি, যা বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে দেয়। এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই খেলা শেষের ১২ মিনিট না যেতেই ইন্দোনেশিয়া নিজেদের তৃতীয় গোলের দেখা পেয়ে যায়। রিজকি রিদোর সুচারু পাস থেকে স্বাগতিক দলের অন্য খেলোয়াড়রা স্কোরলাইন ৩-০ তে নিয়ে যান।
ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে বাংলাদেশ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ এক ইঙ্গিত দিয়েছিল। সুকির চমৎকার একটি ক্রস থেকে বক্সে হেডের মাধ্যমে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান কমান ফরোয়ার্ড শাহরিয়ার ইমন। তবে সেই স্বস্তি এক মুহূর্তের বেশি স্থায়ী হতে দেননি লে বেকার। পরের মিনিটেই নিজের তৃতীয় গোল পূর্ণ করে হ্যাটট্রিক তুলে নেন তিনি, যার সুবাদে ইন্দোনেশিয়া ৪-১ গোলের আরামদায়ক লিড পায়।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তগুলোতে বাংলাদেশের ভঙ্গুর রক্ষণভাগের সুযোগ নিয়ে আরও চড়াও হয় স্বাগতিকরা। ৪২তম মিনিটে ব্যক্তিগত চতুর্থ গোল তুলে নেন লে বেকার। এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ইন্দোনেশিয়ার হয়ে ষষ্ঠ গোলটি করেন হাবনার। ফলে প্রথমার্ধের খেলা শেষে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে ফিরতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্রের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ইন্দোনেশিয়া নিজেদের আক্রমণ অব্যাহত রেখে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলের এক বিশাল ও লজ্জাজনক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।