
ভারতকে ২৭ গোলে বিধ্বস্ত করে শেষ ষোলোয় বেনিন
‘স্কুল চিতা’ নামে পরিচিত বেনিনের এই দলটি টানা দুই ম্যাচে বড় জয় তুলে নিয়ে প্রতিযোগিতায় নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে কাতারকে ৭-০ গোলে হারানোর পর ভারতের বিপক্ষে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে তাদের আক্রমণভাগ। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ম্যাচে ৩৪ গোল করে প্রতিপক্ষের জালে রীতিমতো গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে দলটি।
৮০ মিনিটের ম্যাচে বেনিনের আক্রমণ সামলাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় ভারতীয় রক্ষণভাগ। একের পর এক আক্রমণে ভারতীয় গোলরক্ষককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেন বেনিনের ফুটবলাররা। ম্যাচের কোনো পর্যায়েই প্রতিপক্ষের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করতে পারেনি ভারত।
বেনিনের হয়ে গোল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন জন ইথান হুন্তিনমে, ফ্রাঁসোয়া আদিসা ও ওসভালদো সেমেভো লোকো। তিনজনই চারটি করে গোল করেন। ইজুদিন বুকারি করেন হ্যাটট্রিক। ভারতের খেলোয়াড়দের দুটি আত্মঘাতী গোলও ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই জয়ে বেনিনের আক্রমণভাগের পাশাপাশি রক্ষণভাগের দৃঢ়তাও স্পষ্ট হয়েছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে ৩৪ গোল করলেও নিজেদের জালে একটি গোলও ঢুকতে দেয়নি তারা। ফলে দুই ম্যাচ শেষে বেনিনের গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছে +৩৪।
এদিকে গ্রুপ ‘বি’-এর অন্য ম্যাচে চীন-২ দল কাতারকে ৬-০ গোলে পরাজিত করেছে। এর আগে প্রতিযোগিতার প্রথম দিন ভারত আইএসএসও-২ দলকে ১৫-০ গোলে হারিয়েছিল স্বাগতিক চীন।
গ্রুপের দুই ম্যাচ শেষে বেনিন ও চীন উভয় দলের সংগ্রহ ছয় পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সেভেরিন ডানহার প্রশিক্ষণাধীন বেনিন। তাদের গোল ব্যবধান +৩৪, বিপরীতে চীনের +২১।
গ্রুপের বাকি দুই দল ভারত ও কাতার এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগেই বেনিন ও চীনের পরবর্তী পর্বে ওঠা নিশ্চিত হয়েছে। কারণ, প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল শেষ ষোলোয় খেলার সুযোগ পাবে।
বেনিনের জন্য এবারের প্রতিযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দেশটি টানা তৃতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-১৮ স্কুল বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। ২০২৩ সালের আসরে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিল তারা। তবে ২০২৪ সালে প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি দলটি। সেবার তাদের অবস্থান ছিল ১৯তম।
আগের দুই আসরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার আরও ভালো ফলের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বেনিনের তরুণরা। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স সেই সম্ভাবনাকেই জোরালো করেছে।
বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ২৭ গোলের জয় দলটির আক্রমণাত্মক সামর্থ্যের বড় প্রমাণ। একই সঙ্গে টানা দুই ম্যাচে কোনো গোল হজম না করায় রক্ষণভাগের কার্যকারিতাও সামনে এসেছে।
এখন বেনিনের সামনে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত হলেও পরবর্তী পর্বে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে সেভেরিন ডানহার শিষ্যদের মূল লক্ষ্য।