ক্রিকেটের নো বল । ক্রিকেট খেলার ২৪ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

ক্রিকেটের নো বল । ক্রিকেট খেলার ২৪ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

 

ক্রিকেটের নো বল । ক্রিকেট খেলার ২৪ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

১। ডেলিভারি প্রণালী

যখন কোন বোলার ওভার দ্য উইকেট, রাউন্ড দা উইকেট, ওভার আরম বা আন্ডার আরম অথবা ডান বা বাম হাতে বল করতে ইচ্ছা করে, তখন আম্পায়ার তা স্ট্রাইকারকে জানিয়ে নেবেন। আগেই না জানিয়ে ডেলিভারির ধরণ উল্টোপাল্টা পরিবর্তন করলে আম্পায়ার সেটিকে অসংগত বলে গণ্য করবেন, এবং ‘নো বল’ ডাকবেন ও সংকেত দেবেন।

২। সংগত ডেলিভারি বাহু

সংগত ডেলিভারি করার জন্য বলটিকে অবশ্যই সঠিক প্রণালীতে হাত থেকে মুক্ত করতে হবে, ছুঁড়ে নয়। টীকা (অ) নিচে দেখুন। যদি যে কোন আম্পায়ার সম্পূর্ণ বৈধ ডেলিভারি পূর্ণ বৈধতার ব্যাপারে পুরোপুরিভাবে সন্তুষ্ট না হন তাহলে তিনি তৎক্ষণাৎ ডেলিভারি করার সময় ‘নো বল’ ডাকবেন ও সংকেত দেবেন।

 

৩। সংগত ডেলিভারি-পা

বোলার উইকেটের আম্পায়ার যদি বোলারের ডেলিভারি স্ট্রাইড দেখে সন্তুষ্ট না হন তখন ‘নো বল’ ডাকবেন ও সংকেত দেবেন।

বোলার ডান হাতে বল করছেন। তাঁর সামনের পা বিধিসম্মতভাবে পপিং ক্রীজের ভিতরেরই রাখা আছে। কিন্তু পিছনের পা রিটার্ণ ক্রীজের বাইরে কিছু অংশ মাটিতে ঠেকানো আছে। একটি নো ব-ল বোলার ডান হাতে বল করছেন। তাঁর পা দুইটির অবসস্থান দেখলে বোঝা যায় যে তার সামনের পা পপিং ক্রীজের ভিতর এবং পিছনের পা রিটার্ণ ক্রীজের ভিতর আছে। এটি আইন সংগত বল।

(অ) বোলারের পিছনের পা রিটার্ণ ক্রীজের বা ফরোয়ার্ড এক্সটেনসনের ভিতরে এবং স্পর্শ না করে জমিতে রাখা হয়েছে

(আ) বোলারের সামনের পায়ের কিছু অংশ যেন পপিং ক্রীজের পিছনে ভূমিস্থ বা তোলা অবস্থায় থেকেছে।

৪। ডেলিভারি করার আগে বোলার যদি স্ট্রাইকার উইকেট ছোঁড়েন

যদি কোন বোলার ডেলিভারি করার আগে ট্রাইকারকে রান আউট করার উদ্দেশে তাঁর উইকেটে ছোঁড়েন তবে আম্পায়ার ‘নো ব-ল’ ডাকবেন এবং সংকেত দেবেন।
আইন নং ৪২ (১২) দেখুন (ব্যাটসম্যান কর্তৃক অসংগতভাবে রান চুরি) এবং আইন নং ৩৮ (রান আউট)।

 

৫। ডেলিভারির পূর্বে বোলার কর্তৃক ননস্ট্রাইকারকে রান আউট করার প্রচেষ্টা

ডেলিভারির পূর্বে বোলার যদি ননস্ট্রাইকারকে রান আউট করার চেষ্টা করেন এবং তার ফলে যদি কোন রান নেয়া হয়ে থাকে তাহলে তা অনুমোদন করতে হবে এবং ‘নো ব-ল’ বলে স্কোরে লিপিবদ্ধ করতে হবে। এই প্রচেষ্টায় কৃত বলটিকে ওভারের সংখ্যার ভিতর গণনা করা যাবে না ও আম্পায়ার ‘নো ব-ল’ ডাকবেন না। নং ৪২ (১২) দেখুন (ব্যাটসম্যান কর্তৃক অসংগতভাবে রান চুরি)।

৬। উইকেটরক্ষক বা ফিল্ডসম্যানের আইনভঙ্গ

যদি কোন ঘটনায় উইকেটরক্ষক আইন নং ৪০.১ (উইকেটরক্ষকের অবস্থান) বা ফিল্ডসম্যান আইন নং ৪১.২ (অনসাইডে ফিল্ডসাম্যানদের সীমাবদ্ধতা) বা ৪১.৪ (ফিল্ডসম্যানের অবস্থান) লঙ্ঘন করেন তবে আম্পায়ার ‘নো ব-ল’ ডাকবেন এবং সংকেত দেবেন।

৭। নো বল ডাকা বাতিল (রিভোক)

যে কোন কারণে হোক যদি বোলারের হাত থেকে বল ছাড়া না হয় তাহলে আম্পায়ার সেই নো ব-ল ডাকটি বাতিল করবেন। আইন ২৩২ দেখুন (যে কোন আম্পায়ার ‘ডেড বল’ ডাকবেন ও সংকেত দেবেন।)

 

৮। পেনাল্টি

নো বলের জন্য এক রান ‘পেনাল্টি’ কেবল স্কোরে লিপিবদ্ধ হবে, যদি না অন্য কোন উপায়ে রানগুলি হয়ে থাকে।

৯। নোবল থেকে রান

ট্রাইকার একটি নো ব-ল হিট করতে পারেন এবং সেই থেকে সংগৃহীত রানগুলি তাঁর স্কোরের সঙ্গে যুক্ত হবে। কিন্তু নো ব-ল থেকে অন্য কোনভাবে রান পেলে সেগুলি নো ব-ল হিসাবেই স্কোরে লিপিবদ্ধ হবে।

১০। ‘নো বল’ থেকে আউট

স্ট্রাইকার যদি আইন নং ৩৪ (হিট দা বল টোয়াইস) ভঙ্গ করেন যে কোন ব্যাটসম্যান রান আউট হতে পারেন বা যদি কোন ব্যাটসম্যান আইন নং ৩৩ (হ্যান্ডেলড় দ্য বল) বা আইন নং ৩৭ (অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড) লঙ্ঘন করেন তা হলে তাঁকে একটি ‘নো ব-ল’ থেকে আউট দেয়া যাবে

১১। ব্যাটসম্যানকে নো বল থেকে আউট দেয়া

যদি অন্য কোন উপায়ে রান না হয়ে থাকে এবং ব্যাটসম্যানকে নো ব-লে আউট দেয়া হয় তখন এর পেনাল্টি বোলিং-এর জন্য ধার্য হবে।

 

টীকা

(অ) থ্রোয়ের সংজ্ঞা

একটি বল ছোঁড়া হয়েছে বলে ধরা হবে যদি উভয় আম্পায়ারের যে কোন এক জনের শর্তে বলটি হাত থেকে ছাড়ার ঠিক আগে বোলিং-এর জন্য হাত ঘুরিয়ে ডেলিভারি করার সময় বল করার বাহুটি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে সোজা হয়ে যায়। এই সংজ্ঞাটি একজন বোলারকে ডেলিভারি করার সময় কব্জী ব্যবহার করা থেকে বঞ্চিত করবে না।

(আ) নো বল ওভারে গণ্য নয়

একটি ‘নো বল’ কে ওভারের ভিতর গণনা করা হবে না। আইন নং ২২৩ ডেলিভা28 -(জ) দেখুন (“নো ব-ল বা ওয়াইড বল)।

জ্ঞাতব্য বিষয়

এই নিয়মের দুটি স্বতন্ত্র ও পৃথক দিক আছে যা লঙ্ঘন করলে একটি বোলারের ডেলিভারি করা বলকে ‘নো ব-ল’ বলে চিহ্নিত করা হয়। তার মধ্যে একটি হলো পায়ের অবস্থান সম্পর্কিত বিধি লঙ্ঘন এবং অন্যটি হলো যে হাতের দ্বারা ডেলিভারি করা হয়। তা বিধিসম্মত পদ্ধতিতে যেন দেয়া হয়, ছুঁড়ে নয়। যেহেতু বোলিং প্রান্তের আম্পায়ারের পক্ষে উপরিক্ত দুটি ঘটনা একই সঙ্গে লক্ষ্য রাখা কাম্য হলেও বাস্তবক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তাই স্ট্রাইকার প্রান্তের আম্পায়ারকে লক্ষ্য রাখতে হয় যে বোলারের ডেলিভারিকালীন বল দেয়ার হাতের ব্যবহার যথাযথ আইনসঙ্গত হচ্ছে কিনা? এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে তার প্রত্যেকটি ডেলিভারিই নিয়মবিরুদ্ধ না মাঝে মাঝে এক একটি ডেলিভারি নিয়ম মত হচ্ছে না; কেন না এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো বিধিসম্মতভাবে বল করা। নিক্ষেপ বা ছোঁড়া নয় ৷

বোলার কিভাবে বল করবেন তা আম্পায়ার এবং ব্যাটসম্যানের জানা দরকার। আম্পায়ারের অজ্ঞাতসারে যদি ঐ বোলার বল করার ধরণ পাল্টান যেমন ‘ওভার দি উইকেট’ বা ‘রাউন্ড দি উইকেট ও বা হাত কিংবা ডান হাতে প্রভৃতি তাহলে আম্পায়ারের ‘নো ব-ল’ ডাকা ছাড়া গত্যন্তর থাকে না।

 

বহু বছর ধরে বোলারের ডেলিভারির ভঙ্গিমা আম্পায়ারের পক্ষে একটা সমস্যা হয়ে আছে। এমন কি বিভিন্ন আম্পায়াররা একটি নির্দিষ্ট বোলারের বল করার ভঙ্গিমা সম্পর্কে বিভিন্ন মত পোষণ করে থাকেন, ফলে অবস্থা জটিল আকার ধারণ করে এবং সময় সময়ে আম্পায়ারকে বহু সমালোচনার সম্মুক্ষীণ হতে হয়।

মতপার্থক্যের প্রধান যে কারণ তা হলো, বল করার মুহূর্তে বোলারের হাত সোজা থাকছে না, তাঁর কনুই বেঁকে যাচ্ছে। এই অভ্যাসের পরিবর্তন করতে হলে ঐ বিশেষ বোলারকে আম্পায়ার যখন ‘নো ব-ল’ ডাকছেন তখন ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা, কর্মকর্তা এবং অধিনায়কের উচিত তা সমর্থন করা। এটা করা হলে নির্বাচকরা তাঁকে দলভুক্ত করার আগে অবশ্যই চিন্তা করবেন ও বোলারকে কোচের মাধ্যমে সংশোধন করার ব্যবস্থা করবেন।

বল করার সময় বোলারের পেছনের ও সামনের পায়ের অবস্থান লক্ষ্য করে বোলার। প্রান্তের আম্পায়ারের পক্ষে সঠিকভাবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ‘নো ব-ল’ ডাকার জন্য তৎপরতা প্রয়োজন। আর এটা লক্ষ্য করার সময় মনে রাখতে হবে যে, বোলারের সামনের পা এবং পিছনের পা প্রান্তসীমা নির্দেশক চিহ্নের পপিং ক্রীজ ও রিটার্ণ ক্রীজ এর ভিতরে থাকছে কি না? সামনের পা এবং পিছনের পা মাটিতে স্পর্শ করার দুটি দিক আছে।

প্রথমটি হলো, পিছনের পা মাটি স্পর্শ করলে রিটার্ন ফ্রীজের ভেতরে অথবা তার বাড়ানো অংশের ভেতরে ভূমিস্থ হচ্ছে কিনা? বোলারের সামনের পা মাটিতে যখন স্পর্শ করে তখনই বোলার বলটি হাত থেকে ছাড়েন এবং এইভাবে বোলারের ডেলিভারি স্কাইড ‘নো বল’ ডাকেন।

 

আম্পায়ারকে আরও লক্ষ্য রাখতে হবে যে ডেলিভারি করার সময় বোলারের সামনের পা পপিং ক্রীজের পেছনের মাটিতে (ব্যাক এজের ভিতর) স্পর্শ করেছে বা উঁচু হয়ে আছে কিনা? উপরোক্ত দুটি ক্ষেত্রে সমস্ত বিষয় ঠিক থাকলে তবে বলটি সংগত বল বলে বিবেচিত হবে ।

আগে আম্পায়াররা ‘নো বল’ ডাকার সময় সম্পূর্ণ নো বল কথাটি উচ্চারণ করে থাকতেন; কিন্তু বর্তমানে তাঁরা ঐ সংকেতটি দেবার সময় শুধুমাত্র “নো” কথাটি উচ্চারণ করেন। আম্পায়ারের মতে এখনকার আইনে সামনের পা পপিং ক্রীজের (ব্যাক এজের ভিতর দেখে আম্পায়ারের নো ডাকটি কিন্তু দেরি হয় এতে স্ট্রাইকারের পক্ষে বল হিট করা ঠিক সময়ে অসুবিধা হয়।

আর আম্পায়াররা এই আইনের প্রতিটি নিয়ম পালন করার সময় খুব সজাগ থাকবেন ও তাদের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত স্কোরার যাতে সঠিকভাবে গ্রহণ করেন সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। একটি “নো বলের” আওতায় একজন ব্যাটসম্যান আউট হবেন যদি তিনি হিট দা বল হোয়াইস আইন নং ৩৪ হ্যান্ডলড দ্য বল আইন নং ৩৩, অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড আইন নং ৩৭ লঙ্ঘন করেন।

 

এ ছাড়াও নো বলে কোন ব্যাটসম্যান ৩৮ নং আইন অনুযায়ী “রান আউট” হতে পারেন। এই আইনের ৪.৫ ৬ ৩৭ নং উপধারাগুলি আম্পায়ারদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এগুলিতে কথন আম্পায়ারারা ‘নো বল’ ডাকবেন বা কি পরিস্থিতিতে ভুলক্রমে ডাকা “নো বল” প্রত্যাহার করবেন সে সম্পর্কে বলা আছে।

অন্য কোন ভাবে যদি রান না হয়ে থাকে, তাহলে ” নো বল” থেকে পেনাল্টি হিসাবে প্রতিটি রান অতিরিক্ত রানের ঘরে জমা হবে। সর্বোপরি নতুন আম্পায়ারদের জেনে রাখা ভাল যে, কোন একটি খেলায় দু’দলের রান যখন সমান সমান তখন শেষ বলে যদি আম্পায়ার ‘নো বল’ ডাকেন তাহলে ব্যাটিং দল অতিরিক্ত এক রানের সুবাদে জয়ী হবে, এমন কি ঐ বলে কোন ব্যাটসম্যান আউট হন তবুও।

Leave a Comment