ক্রিকেটের ওয়াইড বল । ক্রিকেট খেলার ২৫ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

ক্রিকেটের ওয়াইড বল । ক্রিকেট খেলার ২৫ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

 

ক্রিকেটের ওয়াইড বল । ক্রিকেট খেলার ২৫ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

১। ওয়াইড বিচার

বোলার যদি উইকেট থেকে অনেক উঁচুতে অথবা অনেক দূর দিয়ে বল করেন যা আম্পায়ারের মতে স্বাভাবিকভাবে গার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্ট্রাইকারে নাগালে বাইরে দিয়ে যাচ্ছে তাহলে বলটি স্ট্রাইকারের উইকেটের লাইন অতিক্রম করা মাত্র ওয়াইড বল’ ডাকবেন এবং সংকেত দেবেন। আম্পায়ার একটি বল ওয়াইড হয়েছে বলে বিচার করবেন না, যদিঃ

(অ) স্ট্রাইকার গার্ড দেবার পর তার জায়গা থেকে সরে গিয়ে বলটিকে তার নাগালের বাইরে দিয়ে যেতে দেবার কারণ হন।

(আ) স্ট্রাইকার সরে যান এবং ফলে বলটি তার নাগালের মধ্যে এনে ফেলেন।

২। পেনাল্টি

ওয়া-ইড বলের জন্য পেনাল্টি হিসাবে এক রান স্কোরের সঙ্গে যোগ হবে। যদি না অন্য উপায়ে কোন রান করা হয়ে থাকে।

 

৩। স্ট্রাইকারের সামনে এসে বল থেমে যাওয়া

যদি আম্পায়ার কোন বল ডেলিভারি হয়েছে বলে মনে করেন এবং সেই বলটি যদি স্ট্রাইকারের সামনে উইকেটের লাইনে এসে থেমে যায় তবে ওয়াইড’ ডাকা যাবে না। ফিল্ডিং দলের কাছ থেকে বাধা না পাওয়া অবস্থায় স্ট্রাইকারের একবার সেই বলটি হিট করার অধিকার আছে। যদি ফিল্ডিং দল তাতে বাধা সৃষ্টি করেন তাহলে আম্পায়ার বলটি সেখানে এসে থেমেছিল সেখানে রেখে বলটি ডেলিভারির আগে ফিল্ডসম্যানরা মাঠের যেখানে যেখানে ছিলেন সেখানে সেখানে ফিরে যাবার নির্দেশ দেবেন। যখনই আম্পায়ার মনে করবেন যে স্ট্রাইকার বলটি হিট করতে ইচ্ছুক নন বা তিনি একবার বলটি মারবার চেষ্টা করে বিফল হয়েছেন তখনই আম্পায়ার ডেড বল’ ডাকবেন এবং সংকেত দেবেন।

৪। রিভোক করা (বাতিল)

যদি স্ট্রাইকার কোন আম্পায়ার কর্তৃক ওয়াইড ডাকা একটি বলকে হিট করেন তখন আম্পায়ার সেই ডাক ‘রিভোক’ বা বাতিল করবেন।

৫। বল ডেড নয়

ওয়া-ইড বল ডাকলে বল কখনই ডেড হয় না। আইন নং ২৩.৪ দেখুন (বল ডেড নয়)।

৬। ওয়াইড থেকে রান

নো বল নয় এমন একটি ‘ওয়াইড বল’ থেকে দৌড়ে বা অন্য উপায়ে নেয়া সব রানগুলিই ওয়া-ইড বল বলে স্কোরে লিপিবদ্ধ হবে। অথবা যদি কোন রান না হয় তাহলে এক রান স্কোরে যোগ হবে।

৭। ওয়াইড থেকে আউট

স্ট্রাইকার ওয়া-ইড বল থেকে আউট হবেন যদি তিনি আইন নং ৩৫ (হিট উইকেট) বা আইন নং ৩৯ (স্টাম্পড) ভঙ্গ করেন। যে কোন ব্যাটসম্যান রান আউট হবেন যদি তিনি আইন নং ৩৩ (হ্যান্ডেল দ্য বল) বা আইন নং ৩৭ (অকট্রাকটিং দ্য ফিল্ড) ভঙ্গ করেন।

৮। ওয়াইড দ্বারা ব্যাটসম্যান আউট

যদি অন্য কোন উপায়ে রান না হয়ে থাকে এবং কখনও ওয়াইড দ্বারা ব্যাটসম্যানকে আউট দেয়া হয় তাহলে বোলিং-এর জন্য পেনাল্টি ধার্য হবে ।

 

টীকা

ওয়াইড বল ওভারে গণ্য নয়

কোন ওয়াইড বল ওভারের বলে গণ্য করা হবে না। আইন নং ২২ ৩ (নো বল বা ওয়া-ইড বল)

জ্ঞাতব্য বিষয়

যদি কোন বল ডেলিভারির পর স্ট্রাইকারের মাথার অনেক উঁচু দিয়ে যায় অথবা তার নাগালের বাইরে থাকে তাহলে তাকে ওয়া-ইড বল’ বলা হয়। কিন্তু বলটি ডেলিভারি করার সময় ব্যাটসম্যান যেন সাধারণ গার্ড নেয়ার অবস্থায় থাকেন। ওয়া-ইড বল হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আম্পায়ারই একমাত্র বিচারক। একজন স্ট্রাইকার তার স্বাভাবিক গার্ডের অবস্থা থেকে সরে গিয়ে বলটিকে ওয়াইড বলের আওতায় ফেলতে পারবে না। আবার ব্যাটসম্যান যদি তার সাধারণ গার্ড নেয়ার অবস্থা থেকে সরে এসে কোন বল খেলে ফেলেন বা বলটি খেলার নাগালে আনেন তাহলে সেই বল ওয়া-ইড বল বলে গণ্য হবে না।

উপরোক্ত ক্ষেত্রে বলটি স্ট্রাইকারের উইকেট অতিক্রম করলে তখনই সামান্য অপেক্ষা করে ভালোভাবে বিচার করে আম্পায়ার ওয়াইড বল সংকেত দেবেন ও ঘোষণা করবেন। বহু ক্রিকেট খেলোয়াড়ের এখনও ভ্রান্ত ধারণা আছে, সে যদি একটি বল রিটার্ণ ক্রীজের লাইনের বাইরে দিয়ে যায় তাহলে সেটাই ওয়া-ইড বল হয় ।

তবে যদি কোন আম্পায়ার কোনো বল ‘নো বল ডাকেন ও সংকেত দেন এবং তারপর বলটি স্ট্রাইকারের নাগালের বাইরে দিয়ে অতিক্রম করে তাহলে আম্পায়ার আর সেই বলটিকে ওয়াইড বল ডাকবেন না বা সংকেতও দেবেন না। এক্ষেত্রে নো বলের জন্য যা যা করণীয় আম্পায়ার তাই করবেন। নো বলে স্ট্রাইকারের কৃত রান তার পক্ষে স্কোরে লিপিবদ্ধ হবে। তবে যদি স্ট্রাইকার বলটিকে না খেলে থাকেন তাহলে অতিরিক্ত রান হিসাবে যোগ হবে।

 

এছাড়া এটাও মনে রাখা উচিত যে আইন নং ৪১ (ফিল্ডসম্যান) এর অধীনে একটি ওয়াইড বল ডাকা বলের খেলার মেয়াদ থাকার বিষয়ে অসংগত ফিল্ডিংএর জন্য। পেনাল্টিও প্রয়োগ করা হবে। ‘ওয়াইড বল’ -এর আওতায় ব্যাটসম্যান পাঁচ রকমভাবে আউট হতে পারেন, যেমন, (ক) হিট উইকেট আইন, (খ) স্টাম্পড আইন, (গ) হ্যান্ডেল দ্য বল আইন, (ঘ) অকন্ট্রাটিং দ্য ফিল্ড আইন, (ঙ) রান আউট আইন।

নো বল এর মতো ওয়াইড বলেও পেনাল্টি রান সংগৃহীত হবে যদি না অন্য কোন উপায়ে কোন রান না হয়ে থাকে। এমন কি কোনো ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেলেও ঐ পেনাল্টি রান ধার্য হবে আর কোন ম্যাচে যদি দুই দলের সমান রান সংগৃহীত হয় এবং ফিল্ডিং দল একটি বল দেন ব্যাটিং দল বিজয়ী হবে। আবার উপরোক্ত ঘটনা মত যদি কোন ফিল্ডসম্যান অসংগতভাবে একটি ওয়াইড বল বা নো বল ডাকা বলকে ৪১ নং আইন অনুযায়ী ফিল্ডিং করেন তাহলে ওয়াইড বা নো বলের পেনাল্টির সঙ্গে আরও ৫ রান পেনাল্টি যুক্ত হবে। অর্থাৎ মোট ৬ রান হবে (পেনাল্টি)। তবে নো বলের ক্ষেত্রে বলটি ব্যাটসম্যান খেললে ক্ষেত্র বিশেষ অনুযায়ী হবে ।

একটি সংগত বল বোলিং করার পর যদি স্ট্রাইকারের উইকেটের লাইনের সামনে এসে থেমে যায় তাহলে সেটি একবার মাত্র হিট করার স্বাধীনতা থাকবে। কোন ক্যাচ এই হিটে হবে না । তবে বাউন্ডারি হলে বাউন্ডারি ৪ রান দেয়া হবে, ওভার বাউন্ডারি ও রান কখনও হবে না। এই আইনের ৪ নং উপধারা অনুযায়ী যদি স্ট্রাইকার কোন ওয়াইড বল হিট করেন, তবে আম্পায়ার তৎক্ষণাৎ ওয়াইড ডাক প্রত্যাহার করবেন । অবশ্য এরকম ঘটনা কদাচিত ঘটে থাকে।

Leave a Comment