মেক্সিকো বিশ্বকাপ নিরাপত্তা নিয়ে ফিফার নিশ্চয়তা

মেক্সিকোতে সম্প্রতি সহিংসতার ঘটনা বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। মাদক চক্রের শীর্ষ নেতা নেমেসিও ‘এল মেনচো’ ওসেগুয়েরা নিহত হওয়ার পর মেক্সিকোর বিভিন্ন প্রান্তে সহিংসতার লহর সৃষ্টি হয়েছিল।

ইনফান্তিনো বলেন, “সব কিছু নিয়ন্ত্রণে আছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং বিশ্বকাপটি চমৎকার হবে।” কলম্বিয়ার বারাঙ্কিয়ায় তিনি এএফপির সঙ্গে কথা বলার সময় এই আশ্বাস দেন।

মেক্সিকো এই বছরের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে অংশগ্রহণ করবে। যৌথ আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজন করবে।

সহিংসতার প্রেক্ষাপট

নেমেসিও ‘এল মেনচো’ ছিলেন হালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের প্রধান। তার সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে গুয়াদালাহারা শহর—হালিস্কো রাজ্যের রাজধানী—কেঁপে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্দেহভাজন কার্টেল সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭৪ জন নিহত হয়।

কার্টেলরা ৩২টি রাজ্যের মধ্যে ২০টিতে সড়ক অবরোধ, আগুন পোড়ানো এবং গাড়ি ধ্বংসের ঘটনা ঘটায়। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র চার মাস আগে এই সহিংসতার ছবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন, “বিশ্বকাপ দর্শকদের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। তাদের নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।”

বিশ্বকাপে গুয়াদালাহারার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

গুয়াদালাহারা শহর চারটি গ্রুপ ম্যাচের আয়োজন করবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উরুগুয়ে বনাম স্পেনের খেলা। এছাড়া মার্চের শেষে প্লে-অফ টুর্নামেন্টও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শেষ দুই দল বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করবে। প্লে-অফের ম্যাচগুলো গুয়াদালাহারা ও মনতেরে যৌথভাবে আয়োজন করবে।

শহর/রাজ্যআয়োজিত ম্যাচ সংখ্যাবিশেষ উল্লেখ
গুয়াদালাহারাউরুগুয়ে বনাম স্পেন, প্লে-অফ
মনতেরেপ্লে-অফ ম্যাচশেষ দুই দল যোগ্যতা অর্জন
মেক্সিকো সিটিঅনুর্ধ্ব-নির্ধারিতমূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ ম্যাচ

ফিফা সভাপতি পরিষ্কার জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে তাদের আস্থা দৃঢ়। এখন প্রধান মনোযোগ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্টেডিয়াম প্রস্তুতি এবং দর্শক পরিষেবা নিশ্চিতকরণে।

মেক্সিকোর সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীও আন্তর্জাতিক পর্যটক এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। বিশেষ করে গুয়াদালাহারা ও মনতেরে শহরগুলোর সড়ক ও হোটেল নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ফলে, এই বিশ্বকাপের মূল বার্তাই হলো—উদ্বেগ থাকা স্বত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক ফুটবল মহাযজ্ঞ শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Comment