রাজশাহী স্টারসের অবিশ্বাস্য শিরোপা

প্রথমবার অংশ নিয়েই নারী ফুটবল লিগের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ল রাজশাহী স্টারস। শেষ রাউন্ডের ম্যাচে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলকে ৩–০ গোলে হারিয়ে তারা নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। শিরোপা নিশ্চিত করতে যেখানে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল মাত্র এক পয়েন্ট, সেখানে প্রতিপক্ষের সামনে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। শেষ ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল সতর্ক; আঁটসাঁট রক্ষণের কারণে গোলশূন্য থাকে বিরতি পর্যন্ত। বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়িয়ে ৪৮তম মিনিটে আলপি আক্তারের গোলে এগিয়ে যায় রাজশাহী। ৫৮তম মিনিটে শাহেদা আক্তার রিপা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট আগে ঋতুপর্ণা চাকমার গোল রাজশাহীর শিরোপা জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে।

এই সাফল্যকে ‘বিস্ময়কর’ বলার প্রধান কারণ রাজশাহী স্টারসের অতুলনীয় ধারাবাহিকতা। ১০ ম্যাচের লিগে তারা জিতেছে ১০টিতেই। শুধু জয় নয়, প্রতিটি ম্যাচেই তারা ক্লিনশিট রেখেছে—একটি গোলও হজম করেনি। আক্রমণভাগে তাদের দাপট ছিল আরও বিস্ময়কর: মোট ৯০ গোল, ম্যাচপ্রতি গড় ৯ গোল। বাংলাদেশের ঘরোয়া নারী ফুটবলের ইতিহাসে এত স্বল্প ম্যাচে এত বেশি গোল ও শতভাগ ক্লিনশিটের নজির বিরল।

লিগের শুরুতেই আগের মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে ১২–০ গোলে উড়িয়ে দেয় রাজশাহী স্টারস। এরপর বিকেএসপি, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসারসহ একাধিক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পায় তারা। বিশেষ করে জামালপুর কাচারিপাড়া একাদশের বিপক্ষে ২৪–০ গোলের জয় লিগের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের ফল হিসেবে আলোচনায় আসে। ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ১–০ ব্যবধানের জয় ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই রাজশাহীর জয় ছিল বড় ব্যবধানে, যা তাদের আক্রমণ ও রক্ষণের ভারসাম্যপূর্ণ শক্তির প্রমাণ।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও রাজশাহীর খেলোয়াড়রা নজর কেড়েছেন। আলপি আক্তার লিগে ৩০ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে এগিয়ে গেছেন। তরুণ ফরোয়ার্ড হিসেবে তাঁকে ঘিরে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন বিশ্লেষকেরা। শাহেদা আক্তার রিপা ও ঋতুপর্ণা চাকমা—দুজনেই শেষ ম্যাচের গোলসহ লিগে ১০টি করে গোল করেছেন। মিডফিল্ড থেকে আক্রমণে গতি তোলার ক্ষেত্রে ঋতুপর্ণার অবদান এবং ফিনিশিংয়ে রিপার ধারাবাহিকতা রাজশাহীর আক্রমণকে করেছে আরও ভয়ংকর।

লিগে রাজশাহী স্টারসের পারফরম্যান্স (সংক্ষেপে)

সূচকপরিসংখ্যান
মোট ম্যাচ১০
জয়১০
ড্র
হার
গোল করেছে৯০
গোল হজম
ক্লিনশিট১০
ম্যাচপ্রতি গোল গড়৯.০

শেষ রাউন্ডে বাংলাদেশ আনসারকে হারিয়ে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব লিগের রানার্সআপ হয়। তারা ১০ ম্যাচে মাত্র একটিতে হেরেছে—সেটিও চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টারসের কাছে ১–০ ব্যবধানে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দল শেষ করেছে তৃতীয় স্থানে। শিরোপা জয়ের সুবাদে রাজশাহী স্টারস এশীয় পর্যায়ের ক্লাব প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক সাফ ক্লাব টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। এতদিন দেশের লিগ কাঠামো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সীমাবদ্ধতায় নারীদের মহাদেশীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব সীমিত ছিল; ফলে অনেক শীর্ষ খেলোয়াড় বিদেশি ক্লাবের হয়ে খেলতে বাধ্য হয়েছেন। রাজশাহী স্টারসের এই শিরোপা শুধু একটি ক্লাবের জয় নয়, বরং বাংলাদেশের নারী ফুটবলের আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের বার্তাও বহন করে।

Leave a Comment