ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মিনি নিলামের জন্য এবারের তালিকায় বাংলাদেশের সাতজন ক্রিকেটার স্থান পেয়েছেন। এই তালিকায় আছেন মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, তানজিম হাসান, রাকিবুল হাসান এবং শরীফুল ইসলাম। তবে আশ্চর্যের বিষয়, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য সাকিব আল হাসান এই তালিকায় স্থান পায়নি।
আইপিএল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ১৩৯০ জন ক্রিকেটারের আবেদন গ্রহণ করেছিল। এর মধ্য থেকে ৩৫০ জনকে বাছাই করে চূড়ান্ত নিলামের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আবুধাবিতে ১৬ ডিসেম্বর এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মিনি নিলামটি মূলত নতুন এবং আনক্যাপড ক্রিকেটারদের জন্য একটি সুযোগ, যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি তাদের শক্তি এবং বাজেট অনুযায়ী দল গঠন করবে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপি সহ তালিকায় আছেন। অন্যদিকে, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান, নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামের ভিত্তিমূল্য ৭৫ লাখ রুপি। রাকিবুল হাসানের ভিত্তিমূল্য ৩০ লাখ রুপি।
রাকিবুলের চমকপ্রদ অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই বাঁহাতি স্পিনার বর্তমানে ইমার্জিং দল, হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াড এবং বাংলাদেশ ‘এ’ দলে নিয়মিত খেলে আসছেন। তবে জাতীয় দলে এখনও ডাক পাননি। ২০২৩ সালে এশিয়ান গেমসে খেললেও সেটি জাতীয় দলের ম্যাচ হিসেবে গণ্য হয়নি। তার ৬৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৬৯টি উইকেট রয়েছে। সেরা বোলিং পারফরম্যান্স ৭ রানে ৩ উইকেট এবং ইকোনমি রেট ৬.৯০।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অনুরোধে ৩৫ খেলোয়াড়কে নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক, জর্জ লিন্ডে ও শ্রীলঙ্কার দুনিত ভেল্লালাগে-এর মতো আন্তর্জাতিক তারকারাও সেখানে আছেন। চূড়ান্ত তালিকায় ২৪০ জন ভারতীয় এবং ১১০ জন বিদেশি খেলোয়াড় রয়েছেন। নিলামের মাধ্যমে ৭৭ ক্রিকেটার কেনা যাবে, যার মধ্যে ৩২টি জায়গা বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য সংরক্ষিত।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের বাজেট নিলামের জন্য সর্বাধিক, মোট ৬৪.৩০ কোটি রুপি। তারা ৬ জন বিদেশিসহ ১৩ জন খেলোয়াড়কে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইবে। এছাড়া, সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্যের খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন ভারতের ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও রবি বিঞ্চোই।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন মিনি নিলামের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হতে পারেন। তিনি ব্যাটসম্যান হিসেবে নাম নিবন্ধিত হয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতের ২৪০ জন ক্রিকেটারের মধ্যে ২২৪ জনই আনক্যাপড। বিদেশি আনক্যাপড খেলোয়াড় ১৪ জন।
মোটকথা, এই মিনি নিলাম নতুন ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে আত্মপ্রকাশের বড় সুযোগ। বিশেষ করে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য এটি নিজস্ব দক্ষতা প্রদর্শনের মঞ্চ, যেখানে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিজেকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে প্রমাণ করতে পারবে।
