আনিসুলের স্বপ্নভঙ্গ, আশিকুর–জাকিরের সেঞ্চুরি—প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাটকীয় দ্বিতীয় দিন

শেরেবাংলা স্টেডিয়াম যেন আজ ছিল ব্যাটসম্যানদের উত্সবস্থল। একই সঙ্গে বোলারদের প্রতিশোধের মঞ্চও বলা যায়। চারদিকে ছিল রানের গন্ধ, উইকেটের পতন, আর রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত। ঢাকা বিভাগের সামনে যেন চট্টগ্রাম দল পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছে।

গতকাল ১৮৩ রানে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকার ওপেনার আনিসুল ইসলামের দিকে আজ সকলের চোখ ছিল। ডাবল সেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ ছাপিয়ে তাঁর ইনিংস আজও স্মরণীয়। কিন্তু দিনের প্রথম ঘণ্টা পেরোতেই জাতীয় দলের পেসার হাসান মাহমুদ তাঁকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন। তিন রান যোগ করতেই উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন আনিসুল। ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্নভঙ্গ হলেও ঢাকার রানের চাপ কমে না। বরং তা আরও বিস্তৃত হতে থাকে।

মার্শাল আইয়ুবের ইনিংস ছিল অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি। প্রথম শ্রেণিতে ২৯টি সেঞ্চুরির মালিক এই ব্যাটার ১৬৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। দুজনের মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকার স্কোর সহজেই ৫০০ ছুঁয়ে ফেলে। এরপরই শুরু হয় আশিকুর রহমানের অপ্রতিরোধ্য লড়াই। গতকাল ২৭ রানের পর আহত হয়ে মাঠ ছাড়লেও আজ তিনি ফিরে দাঁড়ান দৃঢ়তা নিয়ে। ঠাণ্ডা মাথায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করে দলকে ৫৪১ রানে পৌঁছে দেন।

ঢাকার ইনিংস ঘোষণার পর মাঠে নামে চট্টগ্রাম। সেখানেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। সুমন খান, রিপন মণ্ডল আর সালাউদ্দিন শাকিলের মারাত্মক বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে চট্টগ্রাম। দলীয় ২৩ রানে তারা হারায় প্রথম চার উইকেট। ব্যাটিং লাইনআপ একসময় দেখাচ্ছিল যেন T20 ম্যাচেও তারা ৩০ পার করবে কি না! এরপর ইরফান শুক্কুর এবং ইয়াসির আলী ৬১ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু পরপর ১০ বলে দুজনকেই হারালে চট্টগ্রামে নেমে আসে অন্ধকার।

অন্যান্য ভেন্যুতেও ছিল উত্তেজনা। রাজশাহী বিভাগের সানজামুল মাত্র ১৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ময়মনসিংহকে মাত্র ১৩৭ রানে গুটিয়ে দেন। বগুড়ায় সফর আলী আগুনে বোলিং করে রংপুরকে ধসিয়ে দেন। এরই মধ্যে রাজশাহীতে জাকির হাসান নিজের ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৩০ রানে অপরাজিত থেকে তিনি সিলেটকে উদ্ধার করেন এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন।

আজকের দিন শেষের সারাংশ—ঢাকার ব্যাটিং বিস্ফোরণ, চট্টগ্রামের ব্যাটিং ধস এবং দেশের বিভিন্ন মাঠে সেঞ্চুরি–উইকেটের ঝলক।

Leave a Comment