আফকনে জয়ী সদিও মানে,সালাহ ছাড়িয়ে

সদিও মানে গত রাতের খেলা শেষে আফ্রিকার ফুটবলের মুকুট আবারও নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। সতীর্থদের কাঁধে চড়ে দুই হাত আকাশে তুলে, এক হাতে সোনালি ট্রফি, আর অন্য হাতে জয়ীর আনন্দ—মানের মুখে ছড়িয়ে পড়া সেই বিস্তৃত হাসি যেন পুরো মহাদেশকে ঘোষণা করছিল, “আফ্রিকার আসল রাজা এখন আমি।”
এই অর্জনের মাধ্যমে সেনেগালের এই কিংবদন্তি ফুটবলারের আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (AFCON) জয় এখন মোট দুইবার। ২০২১ সালের ফাইনালে মিসরকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথম ট্রফি, আর এবারের আসরে মরক্কোকে পরাজিত করে দ্বিতীয়। দুটি ট্রফির পাশাপাশি দু’বারই তিনি পেয়েছেন টুর্নামেন্ট–সেরার পুরস্কার।

তাদের একসময় লিভারপুলে পারফর্ম করা মুহূর্তগুলোও মনে পড়ছে। ২০১৭ সালে সালাহ রোমা থেকে লিভারপুলে যোগ দিলেন, আর মানে সেখানে অবস্থান করেছিলেন এক বছর আগে। ইউর্গেন ক্লপের অধীনে এই যুগল লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তবে ক্লাব ফুটবলে সব আলো যেন সবসময় সালাহর দিকে ঝুঁকে থাকত। আফ্রিকান রাজপুত্র হিসেবে সালাহর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী।

তবুও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, আফ্রিকান ফুটবলে মানের দখল এক অন্য উচ্চতায়। সালাহর রেকর্ড হয়তো চমকপ্রদ—এক মৌসুমে তিনবার মাসের সেরা, এক আসরে ৩২ গোল, লিগে আফ্রিকান হিসেবে সর্বোচ্চ ১৯০ গোল। কিন্তু আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ‘রাজত্ব’ মানেরই।

খেলোয়ারAFCON জয়টুর্নামেন্ট সেরাউল্লেখযোগ্য মুহূর্ত
সদিও মানে২ বার (২০২১, ২০২৫)২ বারফাইনালে সালাহকে হারানো, মরক্কোকে হারিয়ে ফাইনাল জয়
মোহাম্মদ সালাহ০ বার০ বারলিভারপুলে রেকর্ড ভাঙা, আফ্রিকার মঞ্চে ব্যর্থ

বর্তমানে সালাহ ৩৩ বছর বয়সে লিভারপুলের হয়ে রেকর্ড ভাঙছেন। পরবর্তী আফকনে ২০২৭ সালে তাঁর বয়স হবে ৩৫, তবে ফিট থাকা, ছন্দে থাকা এবং শিরোপা জেতা অনেক ‘যদি-কিন্তু’র ওপর নির্ভর করছে। একই বয়সের মানেরও সুযোগ আছে আরও ব্যবধান বাড়ানোর। তবে আপাতত, আফ্রিকার রাজা হিসেবে উদ্‌যাপনে মগ্ন মানে সকল কিছুর ঊর্ধ্বে।

সদিও মানে এখন শুধু সেনেগালের নয়, পুরো আফ্রিকার গর্ব। আর সালাহ? হয়তো মনের মধ্যে হাহাকার মেশানো প্রশংসা, হয়তো সতীর্থের সাফল্যে নিঃশব্দ হাততালি। তবে ফুটবল মহাকাব্যের এই অধ্যায়ে একটাই সত্য—আফ্রিকার আসল রাজা এখন সদিও মানে।

Leave a Comment