ইতিহাসের তিক্ত স্মৃতি, কঠিন পরীক্ষায় ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে কঠিন এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৬টায় ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের নানা কারণে চাপে রয়েছে হ্যারি কেইনের দল। ইতিহাসের তিক্ত স্মৃতি, উচ্চতাজনিত শারীরিক চ্যালেঞ্জ এবং স্বাগতিক সমর্থকদের বৈরী আচরণ—সব মিলিয়ে কঠিন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন টমাস টুখেলের শিষ্যরা।

আসতেকা স্টেডিয়ামের সঙ্গে ইংল্যান্ডের সম্পর্ক খুব একটা সুখকর নয়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এই মাঠেই আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের শিকার হয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংলিশদের। একই ম্যাচে ম্যারাডোনার অসাধারণ একক নৈপুণ্যের গোলটিও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রায় চার দশক পর একই ভেন্যুতে আবারও নকআউট ম্যাচ খেলতে নামছে ইংল্যান্ড।

আসতেকার ভৌগোলিক অবস্থানও সফরকারী দলগুলোর জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে বাতাসে অক্সিজেনের ঘনত্ব তুলনামূলক কম থাকায় খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে পুরো ম্যাচজুড়ে গতি ও ছন্দ ধরে রাখা ইংল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ডেক্লান রাইস, জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা ও অধিনায়ক হ্যারি কেইনদের এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

ঘরের মাঠে মেক্সিকোর পরিসংখ্যানও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে। আসতেকা স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত ৮৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে মাত্র দুটি পরাজয়ের মুখ দেখেছে দলটি। বিশ্বকাপেও এই মাঠে তাদের রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ। পরিচিত পরিবেশ এবং দর্শকদের সমর্থন বরাবরই মেক্সিকোর বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।

ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডকে মানসিকভাবে চাপে ফেলতে চেষ্টা করেছেন স্বাগতিক সমর্থকেরাও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড দলের টিম হোটেলের সামনে গভীর রাতে কয়েকশ মেক্সিকান সমর্থক জড়ো হন। তারা আতশবাজি ফাটানোর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মারিয়াচি সঙ্গীত বাজিয়ে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানো, যাতে ম্যাচের আগে তারা পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে না পারেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই কোলাহলে হোটেল এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সমর্থকদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বিশ্ব ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ দলের হোটেলের সামনে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে মানসিক চাপ তৈরির ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এমন ঘটনা দেখা গেছে। এবারও কোয়ার্টার ফাইনালকে ঘিরে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো।

তবে মাঠের লড়াইয়ে এসব বিষয়কে প্রভাব ফেলতে দিতে চায় না ইংল্যান্ড। কোচ টমাস টুখেল তার দলকে পুরোপুরি ম্যাচে মনোযোগী থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, স্বাগতিক মেক্সিকো নিজেদের ঘরের মাঠের সুবিধা ও সমর্থকদের সমর্থন কাজে লাগিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে মুখিয়ে আছে।

সব মিলিয়ে আসতেকা স্টেডিয়ামের এই কোয়ার্টার ফাইনালে দুই দলের লক্ষ্য একটাই—জয় নিশ্চিত করে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া। মাঠের বাইরের আলোচনা যতই থাকুক, শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে ৯০ মিনিটের পারফরম্যান্সেই।

মন্তব্য করুন