বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে রোববার (৫ জুলাই) মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে দুই দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
গত কয়েক বছরে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর গোলদাতায় পরিণত হয়েছেন হালান্ড। তার গতি, শক্তি, নিখুঁত ফিনিশিং এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করার ক্ষমতা নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা। তাই ব্রাজিলও এই ম্যাচে তাকে ঘিরেই আলাদা কৌশল সাজিয়েছে।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, হালান্ড নিঃসন্দেহে বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন। তাকে থামানো সহজ হবে না, তবে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। তার বিশ্বাস, দলগত রক্ষণ, শৃঙ্খলা এবং সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে হালান্ডকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
তবে ম্যাচের আগের আলোচনা শুধু তার গোল করার সামর্থ্য নিয়েই নয়। প্রতিপক্ষ হলেও ব্রাজিলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের ভালোবাসার কথাও প্রকাশ করেছেন নরওয়ের এই তারকা। এক সাক্ষাৎকারে হালান্ড বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ব্রাজিলের খেলা দেখে বড় হয়েছেন। দেশটির ফুটবল ঐতিহ্য, আক্রমণাত্মক খেলার ধরণ এবং কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স তাকে বরাবরই মুগ্ধ করেছে।
হালান্ড বলেন, “ব্রাজিল এমন একটি দল, যাদের খেলা আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। তাদের দলে সবসময় অসাধারণ সব ফুটবলার ছিল। তাই তাদের বিপক্ষে মাঠে নামা আমার জন্য সত্যিই বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা।”
তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল শুধু একটি জাতীয় দল নয়, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম প্রতীক। ব্রাজিলের নাম শুনলেই পেলে, রোনালদো, রোনালদিনিয়ো, রোমারিও এবং নেইমারের মতো কিংবদন্তিদের কথা মনে পড়ে। এমন একটি দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ যেকোনো ফুটবলারের জন্যই বিশেষ সম্মানের।
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে সমর্থকদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত কিন্তু হৃদয়ছোঁয়া একটি বার্তা দেন হালান্ড। তিনি বলেন, “আমি ব্রাজিলকে ভালোবাসি।” তার এই মন্তব্য ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে প্রতিপক্ষের প্রতি একজন পেশাদার ফুটবলারের শ্রদ্ধা ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
তবে আবেগ মাঠের বাইরে থাকলেও প্রতিযোগিতার মঞ্চে তার কোনো প্রভাব থাকবে না। হালান্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ম্যাচ শুরু হলে তার পুরো মনোযোগ থাকবে নরওয়ের জয়ে। নিজের গোল করার সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে দলকে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে চান তিনি।
অন্যদিকে, ব্রাজিলও নিজেদের সমৃদ্ধ বিশ্বকাপ ঐতিহ্য ধরে রেখে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও ইতিহাসের মুখোমুখি হবে নরওয়ের আত্মবিশ্বাস, গতি এবং হালান্ডের গোল করার ক্ষমতা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইগুলোর একটি। মাঠের বাইরে প্রশংসা ও শ্রদ্ধার বিনিময় থাকলেও, ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে দুই দলের একমাত্র লক্ষ্য থাকবে জয়।
