উনাহির জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিল মরক্কো। আজ্জেদিন উনাহির জোড়া গোল এবং সুফিয়ান রাহিমির শেষ মুহূর্তের এক গোলের সুবাদে কানাডাকে ৩–০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার এই দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে কার্যত একতরফা লড়াইয়ে পরিণত করে মরক্কো।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল সমানতালে লড়াই। বল দখলে এগিয়ে থেকে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে মরক্কো। তবে সময় গড়াতেই গতি বাড়ায় কানাডা। তাদের দ্রুতগতির আক্রমণ এবং উচ্চ প্রেসিংয়ের কারণে কিছুটা চাপেও পড়ে মরক্কোর রক্ষণভাগ।

১১তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগ পায় কানাডা। মরক্কোর রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান টানি ওলুওয়াসেই। তার নিচু শটটি লক্ষ্যভেদী ছিল, কিন্তু গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো অসাধারণ প্রতিক্রিয়ায় পা বাড়িয়ে বল ফিরিয়ে দেন। নিশ্চিত গোল থেকে দলকে বাঁচান তিনি।

এরপর ম্যাচ কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। মাঝমাঠে দুই দলই বল দখলের চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত গিয়ে আক্রমণগুলো থমকে যাচ্ছিল। ফলে প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

বিরতির পর বদলে যায় খেলার চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়ায় মরক্কো। এর ফল আসে ৫০ মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে আশরাফ হাকিমির নেওয়া ফ্রি–কিক সরাসরি না গিয়ে বক্সের ভেতরে পাঠানো হয়। সেখানে ঠিক সময়ে অবস্থান নিয়ে থাকা আজ্জেদিন উনাহি প্রথম টাচেই জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।

গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে কানাডা। তারা সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও মরক্কোর সংগঠিত রক্ষণভাগ বারবার তাদের আক্রমণ ভেঙে দেয়। সময় যত গড়িয়েছে, মরক্কোর পাল্টা আক্রমণ ততই তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে।

৮২ মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় বড় ধাক্কা খায় কানাডা। মাঝমাঠ থেকে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাস ধরে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশিং করেন উনাহি। নিজের দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে প্রায় ম্যাচের ফল নিশ্চিত করে ফেলেন তিনি।

ইনজুরি সময়ের শেষ দিকে আসে তৃতীয় গোল। দ্রুত আক্রমণ থেকে সুফিয়ান রাহিমি সুযোগ পেয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন, আর তাতেই ৩–০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় মরক্কোর।

পুরো ম্যাচে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেয় মরক্কোর শৃঙ্খলিত রক্ষণ, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা। উনাহির জোড়া গোল শুধু স্কোরলাইনে নয়, দলের আত্মবিশ্বাসেও বড় প্রভাব ফেলেছে।

এই জয়ের মাধ্যমে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে মরক্কো এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করল।

মন্তব্য করুন