অ্যাশেজে প্রতিটি টেস্টেই অস্ট্রেলিয়া–ইংল্যান্ড দ্বৈরথ নতুন রোমাঞ্চ তৈরি করে। তবে ব্রিসবেন টেস্টের তৃতীয় দিন যে দৃশ্য দেখা গেল, তা যেন পুরো ম্যাচের গল্পটাই বদলে দিল। মিচেল স্টার্ক একাই দুই বিভাগে আধিপত্য দেখিয়ে ইংল্যান্ডকে কার্যত চাপে ফেলে দিয়েছেন। বল হাতে যেখানে তাঁর বিধ্বংসী ৬ উইকেট, সেখানে ব্যাট হাতে ৭৭ রানের ইনিংসটি পুরো ম্যাচের গতি পাল্টে দিয়েছে।
তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে অস্ট্রেলিয়া থামে ৫১১ রানে। প্রথম ইনিংসে এই বিশাল সংগ্রহ দলকে এনে দেয় ১৭৭ রানের শক্তিশালী লিড। পুরো ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া দেখিয়েছে ধারাবাহিকতা, ধৈর্য এবং সুযোগ কাজে লাগানোর নিখুঁত উদাহরণ।
Table of Contents
স্টার্ক–বোল্যান্ডের নবম উইকেট জুটি: ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল নবম উইকেট জুটিতে স্টার্ক ও স্কট বোল্যান্ডের ২৭.২ ওভারের দীর্ঘ স্ট্যান্ড। ইংলিশ বোলারদের ক্লান্ত করে তোলা এই জুটি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দাপট স্থায়ী করে দেয়।
স্টার্কের ১৪১ বলে ৭৭ রানের ইনিংসে ছিল ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনের সময়ে শট খেলার ক্ষমতা। বোল্যান্ডও নিজের ভূমিকা নিখুঁতভাবে পালন করেন ৭২ বলে ২১ রানে অপরাজিত থেকে। তাঁদের এই জুটি ভাঙে ব্রাইডন কার্সের বলে স্টার্ক আউট হলে।
ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিক কিন্তু সেঞ্চুরিহীন অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া ৫০০ রান পার করলেও আশ্চর্যের বিষয়—একজনও সেঞ্চুরি পাননি।
এটি টেস্ট ইতিহাসে মাত্র পঞ্চম ঘটনা যেখানে একটি দল ৫০০+ রান করেছে কিন্তু কোনো ব্যাটসম্যান তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।
তাদের পাঁচ ব্যাটার ৬০–৮০ রানের মধ্যে থেমে যান:
ওয়েদারল্যাড – ৭২
লাবুশেন – ৬৫
স্মিথ – ৬১
ক্যারি – ৬৩
স্টার্ক – ৭৭
এর সঙ্গে যোগ হয় আরও একটি অনন্য রেকর্ড—অস্ট্রেলিয়ার ১১ জন ব্যাটসম্যানের কেউ এক অঙ্কে আউট হননি। এটি তাদের টেস্ট ইতিহাসে মাত্র তৃতীয়বার।
ইংল্যান্ডের ক্ষীণ আশা
বড় লিডে পিছিয়ে থেকেও ইংল্যান্ড অ্যাশেজ ইতিহাসে দুবার ম্যাচ জিতেছে—১৮৯৪ ও ১৯৮১ সালে। তাই তারা সম্পূর্ণভাবে আশাহত নয়। বরং আজ ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৫ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও করেছে দারুণভাবে।
এখনো পিছিয়ে আছে ১৩২ রানে, তবে ম্যাচে ফিরতে হলে তাদের প্রয়োজন দীর্ঘ ইনিংস এবং বড় জুটি।
সমগ্র চিত্র
অস্ট্রেলিয়া যেখানে তিন দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে, ইংল্যান্ড সেখানে এখনো লড়াইয়ের চেষ্টা করছে। তবে বাস্তবতা হলো, স্টার্কের অলরাউন্ড ঝড়ে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসেই ম্যাচের ভিত্তি গড়ে ফেলেছে।
