বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে জনসংখ্যার বিচারে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে কুরাসাও। ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই দেশটির জনসংখ্যা দুই লাখেরও কম। মঙ্গলবার (১৯ মে) আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে কুরাসাও ফুটবল কর্তৃপক্ষ। এই দলে জায়গা পেয়েছেন দুই ভাই—লিয়েন্দ্রো বাকুনা ও জুনিও বাকুনা, যা দলটির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য দিক।
এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে কুরাসাও। দলটির অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো বাকুনা। তিনি এর আগে ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলায় খেলেছেন এবং বর্তমানে তুরস্কের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব ইগদির এফকেতে যুক্ত আছেন। তার ছোট ভাই জুনিও বাকুনাও একই দলে সুযোগ পেয়েছেন। ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের ক্লাব ভলেনডাকে খেলছেন।
দলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন তাহিথ চং। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক একাডেমি খেলোয়াড় এই ডান উইঙ্গার নেদারল্যান্ডসের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। গত আগস্টে কুরাসাওয়ের নাগরিকত্ব গ্রহণ করার পর তিনি জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলছেন।
বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে অবস্থান করছে কুরাসাও। তাদের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৪ জুন জার্মানির বিপক্ষে। একই গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই নবাগত দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের আগ্রহ রয়েছে, যদিও দলটি প্রথমবার অংশ নিচ্ছে।
নিচে কুরাসাওয়ের ঘোষিত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড তুলে ধরা হলো:
| বিভাগ | খেলোয়াড়দের নাম |
|---|---|
| গোলরক্ষক | টাইরিক বোডাক, ট্রেভর ডুরনবুশ, এলয় রুম |
| ডিফেন্ডার | রিশেডলি বাজোয়ের, জশুয়া ব্রেনেট, রোশন ভ্যান ইজমা, শেরেল ফ্লোরানুস, ডেভেরন ফনভিল, জুরিয়েন গারি, আরমান্ডো ওবিস্পো, শুরান্ডি সাম্বো |
| মিডফিল্ডার | জুনিও বাকুনা, লিয়েন্দ্রো বাকুনা, লিভানো কোমেনেনসিয়া, কেভিন ফেলিডা, আর’জানি মার্থা, টাইরেস নোসলিন, গডফ্রেড রোমেরাথু |
| ফরোয়ার্ড | জেরেমি আন্তোনিসে, তাহিথ চং, কেঞ্জি গোরি, সন্টজে হ্যানসেন, জার্ভেন কাস্তানির, ব্র্যান্ডলি কুয়াস, ইয়ুর্গেন লোকাডিয়া, জের্ল মার্গারিটা |
কুরাসাওয়ের এই দলটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি নতুন সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সীমিত জনসংখ্যার দেশ হয়েও বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অংশগ্রহণ তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। দলটির স্কোয়াডে ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের উপস্থিতি তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
