ক্যালেন্ডার নয়, ম্যানচেস্টার সিটির স্কোরলাইনই ১০–১ যথেষ্ট

ফুটবলে ‘পারফেক্ট টেন’ শব্দগুচ্ছ সাধারণত সেই খেলোয়াড়ের জন্য ব্যবহৃত হয়, যে দশ নম্বর জার্সি পরে মাঠে থাকে। তবে গত ১০ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটি এক নতুন অর্থে ‘পারফেক্ট টেন’ প্রদর্শন করল—একই ম্যাচে ১০ গোল করল।

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সিটি–এক্সেটার সিটি মুখোমুখি হয়। ম্যাচটি শেষ হয় ১০–১ স্কোরলাইনে, যা ক্যালেন্ডারের তারিখের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিলেছে। ১০ জানুয়ারি বোঝাতে যেমন ব্যবহার করা হয় ১০/১ বা ১০–১, ঠিক সেই স্কোরের প্রতিফলন দেখা গেল মাঠে।

ম্যানচেস্টার সিটির ১০টি গোলের বিশদ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

গোলদাতাগোলের মিনিটবিশেষ তথ্য
রিকো লুইস49, 91দুই গোল, ম্যাচে দুর্দান্ত উপস্থিতি
ম্যাক্স অ্যালাইনা1
রদ্রি15২০২৪ সালের মে মাসের পর প্রথম গোল
অ্যান্টনি সেমেনিও67বোর্নমাউথ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গোল + ১ অ্যাসিস্ট
তিয়ানি রেইনডার্স73
নিকো ও’রিলি82
রায়ান ম্যাকাইদু88
এক্সেটারের আত্মঘাতী22, 78প্রতিপক্ষের দুটি গোল

ম্যাচে গোল করা সাতজন খেলোয়াড়ের মধ্যে আর্লিং হলান্ড অনুপস্থিত ছিলেন। রদ্রির গোলের বিশেষ তাৎপর্য, এটি তার প্রথম গোল ২০২৪ সালের মে মাসের পর। অন্যদিকে, ২৬ বছর বয়সী অ্যান্টনি সেমেনিওর অভিষেকও চমকপ্রদ—বোর্নমাউথ থেকে সিটি যোগ দিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গোল ও একটি অ্যাসিস্ট।

এই কীর্তি ইতিহাসেও বিরল। ২০১১ সালে সোয়ানসির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছিলেন সের্হিও আগুয়েরো। ১৪ বছর পর একই কীর্তি গড়লেন সেমেনিও। দলগতভাবে ম্যানচেস্টার সিটির কীর্তি আরও বড়—১৯৮৬ সালের পর ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে কোনো দল প্রথমবারে ১০ গোল করতে পারেনি। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল লিভারপুলের, যখন ১৯৮৬ সালে লিগ কাপের ম্যাচে ফুলহামকে ১০–০ গোলে হারিয়েছিল।

ইতিহাসে আরও বড় জয়ের উদাহরণও রয়েছে। ১৯৬০ সালে টটেনহাম ক্রু’কে ১৩–২ গোলে হারিয়েছিল। তবে স্কোরলাইন ও তারিখের নিখুঁত মিল এত কম ঘটে। এখন থেকে ২০২৫–২৬ মৌসুমের এফএ কাপ তৃতীয় রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটির জয়কে মনে রাখতে ক্যালেন্ডার খোলার দরকার নেই—১০ জানুয়ারি, ১০–১।

Leave a Comment