জাকের আলীর প্রতি এখনো অটুট আস্থা কোচ সুজনের

শুরুতে মনে হয়েছিল জাকের আলী তেজী এবং লম্বা দৌড়ের ঘোড়া হবেন। সময়ের সাথে সেই তেজ যেন হারিয়ে গেছে। প্রথম দিকে তাকে দেখলেই মনে হতো আস্থার প্রতীক, আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এক সাহসী ব্যাটার, যিনি দলের প্রয়োজনে রয়েসয়ে কিংবা মারমুখী—দু’ভাবেই খেলতে পারেন।

একসময় তিনি তা দেখিয়েও দিয়েছেন। বেশ কয়েকটি ম্যাচে বিপদের সময় ধৈর্য ধরে উইকেট আগলে রেখে পরে হাত খুলে বড় ইনিংস খেলে দলকে জেতান। পাশাপাশি ফ্রি স্ট্রোক-প্লের সক্ষমতাও দেখান। কিন্তু সময়ের প্রবাহে সেই জাকের আলী অনিক এখন যেন কোথায় হারিয়ে গেছেন। আগের সেই সাহস, উদ্যম, আত্মবিশ্বাস আর নেই। তার বদলে দেখা যাচ্ছে খাপছাড়া ব্যাটিং।

এ কারণেই ব্যাটে রান নেই। শট খেলা আর রান করার বিষয়টি যেন ভুলে গেছেন। তার প্রমাণ—শেষ ৫ ওয়ানডে ইনিংস (২৭, ১০, ১৮, ১০, ১৮) এবং শেষ ৮ টি-টোয়েন্টি ইনিংস (৪, ৫, ৬, ৩২, ১০, ১৭, ৫, ২০) মিলে করেছেন মাত্র ১৮২ রান। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে শেষ ১৩ ইনিংসে নেই কোনো ফিফটি।

এমন খারাপ সময়ে জাকের আলীকে নিয়ে সমর্থকদের উদ্বেগ বেড়েছে। তবে বিপিএলে যেই দল নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে তিনি খেলবেন, সেই দলের হেড কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন মোটেও উদ্বিগ্ন নন। বরং তিনি দারুণ আশাবাদী।

ঢাকার ক্রিকেটে লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত এবং ক্রিকেট অঙ্গনে সবার ‘চাচা’ নামে পরিচিত সুজন বিশ্বাস করেন, জাকের আলী না পারার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এবার বিপিএলে নিজেকে ফিরে পাবেন এবং ভালো খেলবেন।

জাকের আলীকে নিয়ে আশাবাদ জানাতে গিয়ে সুজন বলেন, জাকেরের ওপর আমার চোখ আছে। সে আমার বড় নির্ভরতা। তাকে খুব পছন্দ করি। খুব পরিশ্রমী, নিবেদিত এবং ভালো ক্রিকেটার। ম্যাচ গড়তে পারে। জাতীয় দলে হয়তো সে একটু অফ ট্র্যাকে আছে, কিন্তু এটা সাময়িক। ইনশাআল্লাহ বিপিএলে কামব্যাক করবে।

রংপুরের কোচ সুজন মনে করেন, জাকেরের রান না পাওয়ার বড় কারণ তার ব্যাটিং পজিশন। তার ভাষায়, জাতীয় দলে যেই পজিশনে সে খেলে, সেটা খুবই কঠিন। গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মারতে হয়, ইনিংস গড়ার সময় পাওয়া যায় না। সে জায়গায় হয় হিরো, নয়তো জিরো।

সুজনের বিশ্বাস, বিপিএলে তাকে একটু ওপরে ব্যাটিং করানো হলে জাকের আরও ফ্রি হয়ে খেলতে পারবে এবং নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে সেরাটা দিতে পারবে।

Leave a Comment