বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর পেরোনোর পরও নিজস্ব কোনো মাঠ না থাকা বাস্তবতায় আজ নতুন সম্ভাবনার সূচনা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাফুফে ভবনে এসে বর্তমান কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনটি স্টেডিয়ামের ব্যবহারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।
বাফুফের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম এখন থেকে মূলত ফুটবল ব্যবহারের জন্য উপলব্ধ হবে, তবে শর্তসাপেক্ষে। শর্তটি হলো, ক্রিকেট ছাড়া অন্যান্য খেলার আয়োজনের প্রয়োজন পড়লে সেগুলো আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হবে।
উপদেষ্টা বলেন,
“ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের স্টেডিয়ামগুলো আমরা মূলত ফুটবলের জন্য নির্ধারণ করেছি। তবে ক্রিকেট ছাড়া অন্যান্য টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রয়োজন হলে তা আয়োজনের সুযোগ থাকবে।”
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতেও আরও স্টেডিয়াম পাওয়ার আশা করছেন। তিনি বলেন,
“আমরা সবসময় আশ্বাসের ওপরে বিশ্বাস রাখি। প্রথমে দুটি স্টেডিয়াম দিয়ে শুরু করব, ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি স্টেডিয়াম আমরা পাব। দেশের এবং ফুটবলের স্বার্থে সকলের প্রচেষ্টা একত্রিত হবে।”
বৈঠকে বাফুফের বর্তমান কমিটি তাদের এক বছরের সফলতা এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে শেয়ার করেছে। তাবিথ আউয়াল আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারী সহযোগিতা আগামী এক বছরও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন,
“আমরা চাই যে, সরকার যে আর্থিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা করেছে, তা অন্তত আগামী এক বছর ধরে অব্যাহত থাকবে। এটি আমাদের ফুটবলের উন্নয়নে সহায়ক হবে।”
নিচের টেবিলে দেওয়া হলো তিন স্টেডিয়ামের প্রধান বিবরণ ও ব্যবহারের শর্তসমূহ:
| স্টেডিয়াম | শহর | মূল ব্যবহার | শর্তসাপেক্ষ ব্যবহার | বর্তমান পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|---|
| জাতীয় স্টেডিয়াম | ঢাকা | ফুটবল | ক্রিকেট ছাড়া অন্যান্য খেলা | বাফুফে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত |
| জেলা স্টেডিয়াম | সিলেট | ফুটবল | ক্রিকেট ছাড়া অন্যান্য খেলা | বাফুফে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত |
| জেলা স্টেডিয়াম | চট্টগ্রাম | ফুটবল | ক্রিকেট ছাড়া অন্যান্য খেলা | বাফুফে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত |
ফুটবল ফেডারেশনের জন্য এটি একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো সরকারি পর্যায়ে স্পষ্টভাবে তিনটি স্টেডিয়ামের ব্যবহারের অনুমোদন মিলেছে, যা জাতীয় এবং স্থানীয় ফুটবলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
