সিডনির অলিম্পিক পার্ক আজ যেন এক মহা উৎসবে পরিণত হয়েছিল। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকের ঐতিহাসিক ভেন্যু আবারও জেগে উঠল ফুটবল প্রেমীদের উন্মাদনায়। ২১তম নারী এশিয়ান কাপের ফাইনালে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের দ্বৈরথের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলো জাপান, ১–০ গোল ব্যবধানে জয় অর্জন করে। হলুদ জার্সির মাটিল্ডাসদের উল্লাস থেমে গেল নীল জার্সিধারী নিন্তেনশির কাছে।
৮০,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। বিকেল থেকেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে সমর্থকের ঢল নামে। মিন্টো ও গ্ল্যানফিল্ডের ট্রেন স্টেশনগুলো যেন হলুদ সমুদ্রের আভাস দিচ্ছিল। লিডকম্ব স্টেশন থেকে অলিম্পিক পার্ক পর্যন্ত হাঁটা পথও সমর্থকদের উত্তেজনা আর উচ্ছ্বাসে ভরা ছিল। গ্যালারিতে প্রবেশের মুহূর্তেই বোঝা যাচ্ছিল, এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, এক বিস্ময়কর ফুটবল উৎসব। প্রেসবক্স থেকে দেখা গগনবিদারী চিৎকার এবং শোরগোল যেন সিডনির আকাশেও প্রতিধ্বনি করছিল।
দুই দলের ইতিহাস এবং শক্তির তুলনা করলে দেখা যায়:
| দল | পুরনো অর্জন | সর্বশেষ ফর্ম | ফাইনালে উপস্থিতি |
|---|---|---|---|
| জাপান | ২০১১ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ২০১৪ ও ২০১৮ এশিয়ান কাপ জয়ী | গ্রুপ পর্বে ১৭ গোল, সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়া ৪-১ | ৩বার ফাইনাল জয়ী |
| অস্ট্রেলিয়া | ২০১০ এশিয়ান কাপ জয়ী, ২০২৩ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালিস্ট | কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর কোরিয়া ২-১, সেমিফাইনালে চীন ২-১ | প্রথমবার ঘরের মাঠে ফাইনাল |
ম্যাচের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার ‘মাটিল্ডাস’ দৃঢ়ভাবে খেলছিল। অধিনায়ক স্যাম কার এবং রক্ষণে অ্যালানা কেনেডি দলের আক্রমণ এবং প্রতিরক্ষা নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। কিন্তু ১৭ মিনিটে জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো দূরপাল্লার এক অসাধারণ শটে অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে মাঠে নীল জার্সির উল্লাস ছড়িয়ে দেয়। হামানোর গোলের পর পুরো স্টেডিয়াম নীরব হয়ে যায়, আর জাপানের সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।
দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রেলিয়া মরিয়া হয়ে খেললেও জাপানের রক্ষণ যেন অটল। গোলরক্ষক আয়াকা ইয়ামাশিতার দক্ষতা আর প্রতিরক্ষা লাইন একে অপরের সঙ্গে মিল রেখে সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি সুযোগই কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় জয় নির্ধারিত হয় একমাত্র গোলেই।
জাপানের ড্যানিশ কোচ নিলস নিলসেন ইতিহাস গড়লেন প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে দলকে শিরোপা জিতিয়ে। মধ্যমাঠে ইউই হাসেগাওয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে হামানোর দক্ষতা দলকে অপরাজিত রাখে। জাপানের জয় শুধুমাত্র কৌশল নয়, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ফল।
এই বিজয় জাপানের তৃতীয় নারী এশিয়ান কাপ শিরোপা নিশ্চিত করে। আগের ফাইনালে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া একইভাবে ১–০ ব্যবধানে হেরেছিল; এবারও ইতিহাস যেন পুনরাবৃত্তি হলো। অলিম্পিক পার্কের রাত দেখালো, ফুটবলের জাদু শুধু একটি দলের নয়, সমগ্র খেলারই।
সিডনিতে ঈদের উচ্ছ্বাসও মিশে গিয়েছিল ফুটবল উৎসবের সঙ্গে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা যারা ম্যাচটি দেখেছেন, তাদের জন্য এটি ছিল অভিজ্ঞতা ও আনন্দের এক দারুণ মিশ্রণ।
