ঈদেও ব্যস্ত জাতীয় ফুটবল দল

দেশজুড়ে ঈদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরপুর পরিবেশ বিরাজ করলেও বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে দিনটি কেটেছে ভিন্ন বাস্তবতায়। জাতীয় দল থেকে শুরু করে বয়সভিত্তিক দল—সবাই আন্তর্জাতিক সূচি, ভ্রমণ ও অনুশীলনের চাপ সামলে এগিয়ে চলেছে নিজেদের লক্ষ্যের দিকে। ফলে উৎসবের এই বিশেষ দিনটিও অনেক ফুটবলারের কাছে পরিণত হয়েছে দায়িত্বপালনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ঈদের আগের রাতেই ভিয়েতনামের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং দীর্ঘ যাত্রা শেষে সকালে সেখানে পৌঁছে। ভ্রমণের ক্লান্তি কাটাতে পুরো দলই দিনটি কাটিয়েছে হোটেলে বিশ্রামে। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াসহ খেলোয়াড়দের শারীরিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে কোচিং স্টাফ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দলের ম্যানেজার আমের খান জানিয়েছেন, টানা যাত্রার কারণে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন ছিল। তাই ঈদের দিনটি সম্পূর্ণ বিশ্রামের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পরবর্তী দিনগুলোতে অনুশীলনে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া যায়।

ভিয়েতনাম সফরে বাংলাদেশের সূচি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবদ্ধ। ২৬ মার্চ স্বাগতিক ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে দলটি। এই ম্যাচটি শুধুমাত্র প্রস্তুতির অংশ হলেও দলীয় কৌশল যাচাই ও খেলোয়াড়দের ফিটনেস মূল্যায়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এরপর ২৭ মার্চ দলটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে, যেখানে ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচ। প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর ইতোমধ্যেই মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করায় ম্যাচটির প্রতিযোগিতামূলক চাপ তুলনামূলক কম হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি আত্মপ্রকাশ ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় সুযোগ।

এছাড়া ইংল্যান্ডপ্রবাসী মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা জাতীয় দলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সময়ে দেশের বয়সভিত্তিক দলগুলোও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রস্তুত করছে। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ দল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে পৌঁছেছে। দীর্ঘ ভ্রমণের পর খেলোয়াড়রা হোটেলে উঠে বিশ্রাম নেয় এবং পরবর্তী প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দেয়। ২৪ মার্চ তাদের প্রথম ম্যাচ, যা টুর্নামেন্টে ইতিবাচক সূচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থান করছে। ভ্রমণের পরপরই তারা হালকা অনুশীলনের মাধ্যমে শরীর সচল রাখে এবং পরদিন থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতিতে নামার পরিকল্পনা নেয়। কোচিং স্টাফের মতে, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

নিচে বিভিন্ন দলের ভ্রমণ ও সূচির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—

দলগন্তব্যপ্রতিযোগিতাগুরুত্বপূর্ণ তারিখ
জাতীয় দলভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুরপ্রীতি ম্যাচ ও এশিয়ান কাপ বাছাই২৬ ও ৩১ মার্চ
অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষমালদ্বীপ (মালে)সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ২৪ মার্চ
অনূর্ধ্ব-২০ নারীথাইল্যান্ড (ব্যাংকক)এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টঅনুশীলন চলমান

সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তেও বাংলাদেশের ফুটবলাররা নিজেদের দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হননি। পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্য থেকে দূরে থেকেও তারা দেশের জন্য লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের এই নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের ফুটবলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পথে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

Leave a Comment