মেসির ভারত সফরের নেপথ্যে যে মানুষ—শতদ্রু দত্ত

ফুটবল-রোমাঞ্চে উন্মাতাল ভারতজুড়ে এখন একটাই আলোচনার নাম—লিওনেল মেসির ‘গোট ট্যুর অব ইন্ডিয়া ২০২৫’। আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের বহু প্রতীক্ষিত এই সফর নিয়ে যেমন উত্তেজনার জোয়ার, তেমনই আলোচনায় উঠে এসেছেন এ আয়োজনের নেপথ্যের কাণ্ডারি শতদ্রু দত্ত। হুগলির মাটিতে বড় হওয়া এই উদ্যোক্তাই আজ ভারতের অন্যতম শীর্ষ স্পোর্টস প্রোমোটার, যিনি একের পর এক বিশ্বফুটবল তারকাকে ভারত এনে বদলে দিয়েছেন দেশের ক্রীড়া আয়োজনের মান ও পরিসর।

■ ছোট শহর থেকে বিশ্বমঞ্চে: শতদ্রুর যাত্রা

হুগলি জেলা বরাবরই ফুটবলমুখী। সেই পরিবেশেই বেড়ে ওঠা শতদ্রুর স্বপ্ন ছিল—ভারতের ফুটবল সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তিনি গড়ে তোলেন তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘দ্য শতদ্রু দত্ত ইনিশিয়েটিভ’, যা বর্তমানে স্পোর্টস মার্কেটিং, সেলিব্রিটি ম্যানেজমেন্ট, ব্র্যান্ডিং ও সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগের শীর্ষ নাম।
প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য—বিশ্বের কিংবদন্তি ফুটবল তারকাদের ভারতীয় সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা এবং সেই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা।

■ প্রথম অনুপ্রেরণা: সৌরভ গাঙ্গুলী

শতদ্রুর আন্তর্জাতিক স্পোর্টস প্রোমোশনে নাম লেখানোর নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর প্রথম এবং সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা সৌরভ গাঙ্গুলী। গাঙ্গুলীর আস্থা ও সহযোগিতাতেই সাহস পান তিনি।
২০১৫ সালে দু’জনে মিলে কলকাতায় নিয়ে আসেন ফুটবলের রাজা পেলেকে। সেখান থেকেই শুরু হয় শতদ্রুর ‘গ্লোবাল ফুটবল মুভমেন্ট’। এরপর ধারাবাহিকভাবে তাঁর উদ্যোগে ভারত সফরে আসেন দিয়েগো ম্যারাডোনা, রোনালদিনহো, কাফু, এমনকি বিশ্বকাপ–জয়ী গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ

■ মেসিকে আনতে বড় ভূমিকা মার্টিনেজ–রোনালদিনহোর

ভারত সফর শেষে মার্টিনেজ ও রোনালদিনহোর ইতিবাচক অভিজ্ঞতাই মেসির টিমকে রাজি করাতে গুরুত্ব পেয়েছে। দুজনেই মেসির প্রতিনিধি ও পরিবারের কাছে ভারতের দর্শক, তাদের উচ্ছ্বাস এবং আয়োজনের মান সম্পর্কে প্রশংসা করেন।
এরপর শতদ্রু দত্ত দেখা করেন মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসির সঙ্গে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সরাসরি লিওনেল মেসির সঙ্গেও কথা বলেন।

■ কেন রাজি হলেন মেসি?

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে—মেসিকে দেখানো হয় পূর্ববর্তী ভারত সফরগুলোর আড়াই দশকের অভূতপূর্ব ফুটেজ, যেখানে ভারতীয় দর্শকের উন্মাদনা, ট্রিবিউট ও ভক্তদের সম্মান প্রকাশ তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
এরপরই মিলেছিল সম্মতি—ফলাফল, ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তিন দিনে চারটি শহরে মেসিকে সরাসরি দেখার সুযোগ পাবে ভারত। দেশের ফুটবল ইতিহাসে এমন আয়োজন আগে কখনো হয়নি।

■ মেসির সফরের সম্ভাব্য প্রভাব

শতদ্রুর বিশ্বাস—মেসির আগমন ভারতের ক্রীড়া পর্যটনে এক নতুন যুগের সূচনা করবে। তাঁর মতে,

“যেভাবে কোল্ডপ্লের কনসার্ট ভারতের কনসার্ট কালচার বদলে দিয়েছিল, মেসির সফর তেমনই ফুটবলে এক গ্লোবাল ওয়েভ তৈরি করবে। আমার স্বপ্ন—ভারত যেন ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করে।”

■ মেসির ‘গোট ট্যুর অব ইন্ডিয়া ২০২৫’—সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয়তথ্য
সফরের নামগোট ট্যুর অব ইন্ডিয়া ২০২৫
আয়োজকদ্য শতদ্রু দত্ত ইনিশিয়েটিভ
সময়১৩–১৫ ডিসেম্বর (৩ দিন)
শহর সংখ্যা৪টি বড় শহর
উদ্দেশ্যভারতীয় ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও ফুটবল সংস্কৃতি বিস্তৃত করা

■ শেষ কথা

শতদ্রু দত্ত শুধু একজন উদ্যোক্তা নন—ভারতের ক্রীড়া সংস্কৃতির বদলে যাওয়া রূপের অন্যতম কারিগর। পেলে, ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে রোনালদিনহো—সবাইকে আনার পর এবার তাঁর প্রচেষ্টাতেই ভারত দেখতে যাচ্ছে ইতিহাসের সেরা ফুটবলারদের একজনকে।
মেসির সফর শুধু ফুটবলপ্রেমীদের উৎসব নয়; এটি ভারতের ক্রীড়া শিল্প, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও এক ধাপ উঁচুতে পৌঁছে দেবে—এমনটাই আশা আয়োজনের নেপথ্যের মানুষ শতদ্রুর।

SB

Leave a Comment