রনির ব্যাটে তাণ্ডব, ৭ ইনিংসে ৩২ ছক্কা!

মূল পরিচয় বাঁহাতি পেসার হলেও এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগে রনির ব্যাটিং দৃঢ়তা সত্যিই অভূতপূর্ব। ৩০ বছরের এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার মাত্র ৪ ম্যাচের ৭ ইনিংসে এমন এক রেকর্ড স্থাপন করেছেন, যা এ লিগের ইতিহাসে বিরল। প্রতিটি ইনিংসে তার ছক্কা এবং চারের সমন্বয়ই তাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জাতীয় লিগের সপ্তম ম্যাচে রনি রাজশাহীর বিপক্ষে ১২৭ বল খেলে ১৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এই ইনিংসে তিনি ১০ চার এবং ১৩টি ছক্কা মেরেছেন। এ ধরনের ঝড়ো ব্যাটিং তাকে পুরো টুর্নামেন্টের মধ্যে সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এদিকে, বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলায় যাওয়া রনিকে পুরো লিগে খেলতে না পারলেও, তার পরিসংখ্যান চোখ ধাঁধানো। ৭ ইনিংসে ৩২টি ছক্কা এবং ৩১টি চার মেরে ৪২১ রান করেছেন। শুধু বাউন্ডারির মাধ্যমে অর্জিত রানই ৩১৬। এটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অদ্ভুত হলেও বাস্তব।

লিগে অন্য কোনো ব্যাটার রনির ছক্কা সংখ্যার কাছাকাছি যায়নি। সর্বাধিক ১৫টি ছক্কা মেরেছেন কেউ না, আর দশ বা তার বেশি ছক্কা করেছেন মাত্র চারজন ব্যাটার। রনির স্ট্রাইক রেট ১১৬.৯৪ এবং গড় ১০৫.২৫, যা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে অতিক্রমযোগ্য নয়।

রনি প্রথম রাউন্ডে সিলেটের বিপক্ষে ১০ চার ও ৬ ছক্কায় ১০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে রংপুরের বিপক্ষে ৩৪ বলে ৬০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ষষ্ঠ রাউন্ডে ফিরে ৭৬ বল খেলে ৯৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন। শেষ রাউন্ডে রাজশাহীকে লক্ষ্য করে ১৪১ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন।

তবে রনির তাণ্ডব সত্ত্বেও ময়মনসিংহ দল জয় পায়নি। ৪২৮ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড়িয়ে রাজশাহী ১৪৬ রানে জয় নিশ্চিত করেছে। রনির বিপুল ব্যাটিং পারফরম্যান্সে শিবিরের ফলাফল অবশ্য হেরেছে। রাজশাহীর বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম দুই ইনিংসে পাঁচটি করে উইকেট নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন।

রনির ব্যাটিং প্রমাণ করল, যে কোনো পরিস্থিতিতে তিনি দলকে শক্তিশালী করতে সক্ষম। পেসার হলেও তার ব্যাটে বিধ্বংসী সক্ষমতা জাতীয় লিগে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ময়মনসিংহের জন্য রনি এক সত্যিকারের অলরাউন্ডার, যিনি দলের জন্য খেলেন উভয় ক্ষেত্রেই—বোলিং ও ব্যাটিংয়ে।

Leave a Comment