রায়পুরে রেকর্ড ভাঙা রান তাড়া: মার্করাম–ব্রেভিসে ভারতের ৩৫৮ রানের দেয়াল ভেঙে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা

রায়পুরে ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ওয়ানডে পরিণত হয় আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের ‘চেজ মাস্টারি’র এক দুর্দান্ত উদাহরণে। ভারতের ৩৫৮ রানের বিশাল স্কোরও যেন দক্ষিণ আফ্রিকার পরিকল্পিত ব্যাটিংয়ের সামনে খুব একটা ভীতিপ্রদ হয়ে ওঠেনি। ৪ উইকেট হাতে এবং ৪ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ শেষ করে প্রোটিয়ারা দেখিয়ে দিল— বড় লক্ষ্য তাড়ায় মানসিকতা, স্ট্র্যাটেজি এবং পরিস্থিতি বিচার কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। এই জয় শুধু সিরিজে সমতা ফেরায়নি; বরং দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও গড়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়ার বিশ্বরেকর্ডেও এখন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে তাদের নাম জুড়ে গেল।

মার্করামের ইনিংসে চেজের ভিত

দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ওপেনার এইডেন মার্করাম। ওয়ানডে ওপেনার হিসেবে তার প্রথম সেঞ্চুরিটা আসে কি না আসেই—একটি কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। বোলারদের পরিমিত আক্রমণ—ফাঁকে–ফাঁকে বাউন্ডারি, উইকেট না হারিয়ে ইনিংস বড় করা—সব মিলিয়ে নিখুঁত ক্যালকুলেশন।

৯৮ বলে ১১০ রানের ইনিংসটি ছিল চাপ সামলে ব্যাটিংয়ের এক শিক্ষণীয় উদাহরণ, যেখানে ১২টি চার এবং বেশ কিছু নিখুঁত টাইমিংয়ের শট পুরো চেজের গতি নির্ধারণ করে দেয়।

বাভুমা–মার্করাম জুটিতে ভিত্তি

প্রথম উইকেট দ্রুত হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে বাভুমা–মার্করামের ১০১ রানের জুটি চেজের গতিপথ নিশ্চিত করে। ক্যাপ্টেন বাভুমার ৪৬ রানটি দেখতে বড় না হলেও তার স্ট্রাইক রোটেশন, ডট বল কমানো এবং মার্করামকে বড় শটের সুযোগ করে দেওয়া ছিল ম্যাচের গতিপথে বড় ভূমিকা।

ব্রিটজকে–ব্রেভিসে ম্যাচের মোড় ঘোরা

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ব্রিটজকে–ব্রেভিস জুটি।
মার্করাম আউট হয়ে গেলে ভারত কিছুটা ম্যাচে ফিরছিল, কিন্তু তরুণ ব্রেভিস খেললেন টি–টোয়েন্টির ছোঁয়া লাগানো এক বিধ্বংসী ইনিংস—৩৪ বলে ৫৪!

ব্রিটজকে ৬৮ রানের শান্ত–স্থির ইনিংস দিয়ে তাকে সাপোর্ট দেন। দুজন মিলে ৬৪ বলেই ৯২ রান তোলেন—যা আসলে ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।

শেষদিকে বশের ঠাণ্ডা মাথার ক্যামিও

শেষদিকে ব্রিটজকে আউট হওয়া এবং টনি ডি জর্জির রিটায়ার্ড হার্ট–এর কারণে চাপ বাড়লেও করবিন বশ ১৫ বলে ২৯ রানের ঝড়ো ক্যামিও খেলে নিশ্চিত করেন ঐতিহাসিক জয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার পুরো চেজ জুড়ে রান রেট ছিল অবিশ্বাস্যভাবে নিয়ন্ত্রিত:

  • ১০ ওভারে: ৫১

  • ২০ ওভারে: ১১৮

  • ৪০ ওভারে: ২৮২

এটাই প্রমাণ করে—ওয়ানডে চেজে গতি ধরে রাখার শিল্পে তারা কতটা উন্নত।

ভারতের ব্যাটিং: কোহলি–গায়কোয়াড় নির্ভরতা

ভারতের ব্যাটিং গড়ে ওঠে মূলত কোহলি ও রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের ব্যক্তিগত মেধায়। ওপেনাররা ব্যর্থ (যশস্বী ২২, রোহিত ১৪) হলেও কোহলি তার আরও একটি ‘পারফেক্ট চেজ সেটআপ’ ইনিংস খেলেন—৯৩ বলে ১০২। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি তার ৮৪তম সেঞ্চুরি, যা তাকে টেন্ডুলকারের ১০০ সেঞ্চুরির দিকে আরও এগিয়ে দিল।

গায়কোয়াড় ১০৫ রানের ক্যারিয়ার–সেরা ইনিংস খেলেন। তাদের ১৯৫ রানের জুটি ভারতের স্কোর ৩৫৮ রান পর্যন্ত তুললেও তা যথেষ্ট হয়নি।

সারসংক্ষেপ

এই ম্যাচ বলল—
বড় স্কোর মানেই নিরাপদ স্কোর নয়।
যদি প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ঠাণ্ডা মাথায় সাজানো থাকে, আর শটে আত্মবিশ্বাস থাকে—৩৫০+ লক্ষ্যও এখন তুচ্ছ!

Leave a Comment