২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সূচনা মাত্র কয়েক মাস দূরে। মাঠের উত্তেজনা বেড়েই চললেও রাজনৈতিক টানাপোড়েন ইতিমধ্যেই খেলাধুলার রোমাঞ্চকে ছাপিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক হুমকির কারণে ব্রিটিশ সংসদে ২৩ জন এমপি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ ও অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর থেকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, “আন্তর্জাতিক আইন ও অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনকারী রাষ্ট্রকে ক্রীড়ার মহাযজ্ঞে রাখা যায় না।” এদের মধ্যে লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি এবং প্লাইড কামরুর এমপি অন্তর্ভুক্ত।
ঘটনার সূত্রপাত এ মাসে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট একের পর এক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রিনল্যান্ড, কলম্বিয়া, মেক্সিকোসহ অন্যান্য দেশকে নিয়ে।
ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে শান্তি প্রচেষ্টায় অবদানের জন্য ‘শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের ফলে বিশ্বমঞ্চে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| দেশ/অঞ্চল | মার্কিন পদক্ষেপ/হুমকি | প্রতিক্রিয়া/প্রভাব |
|---|---|---|
| ভেনেজুয়েলা | প্রেসিডেন্ট মাদুরো আটক, তেলশিল্পে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার হুমকি | মাদুরো দাবি করেছেন, তিনি ‘যুদ্ধবন্দী’। জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন |
| কলম্বিয়া | মাদক পাচারের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি | প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেছেন, ‘বাস্তব হুমকি’ তৈরি হয়েছে |
| মেক্সিকো | মাদকবাহী ঢল ঠেকাতে সামরিক হুমকি | প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম সামরিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান |
| গ্রিনল্যান্ড | জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি | ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণাধীন, ন্যাটো ও বিশ্বকাপ সংক্রান্ত উদ্বেগ |
ফিফা ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি রাশিয়াকে ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে নিষিদ্ধ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং আইওসি সদস্যরা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ক্রীড়ার মাঠে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের দায়িত্বের বাইরে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ আগামী বছর লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে অলিম্পিকসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভিসা ও অভিবাসন সীমাবদ্ধতার কারণে ইরান, হাইতি, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকেরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে বাধার সম্মুখীন হতে পারেন।
ফলশ্রুতিতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ট্রাম্পের পদক্ষেপ কীভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপকে প্রভাবিত করবে, তা এখন গোটা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশ্বমঞ্চে ফুটবলের উত্তেজনা ধরে রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
