
সাফ ফুটবলে নতুন আশা: ২৩ বছরের ট্রফি খরা কাটাতে মুখিয়ে বাংলাদেশ
দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় লড়াই ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে’ বাংলাদেশের শেষ সাফল্য এসেছিল ২০০৩ সালে, সেই চেনা ঘরের মাঠেই। এরপর দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ এই ট্রফিটি লাল-সবুজদের জন্য কেবলই অধরা স্বপ্ন হয়ে থেকে গেছে। তবে ২৩ বছরের সেই দীর্ঘ শিরোপাহীনতার অবসান ঘটাতে এবার নতুন রণকৌশল সাজাচ্ছেন জাতীয় দলের নব্য নিয়োগপ্রাপ্ত হেড কোচ টমাস ডুলি। আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় বসতে যাচ্ছে সাফের নতুন আসর। হোম অ্যাডভান্টেজকে পুঁজি করে ঘরের মাঠেই এবার বাজিমাত করতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ।
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আসন্ন টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল লোগো উন্মোচন এবং টাইটেল স্পন্সর হিসেবে জনপ্রিয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। বাফুফে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণে ছিলেন জাতীয় দলের নতুন মাস্টারমাইন্ড টমাস ডুলি, অভিজ্ঞ রক্ষণভাগের সেনানী তপু বর্মণ এবং উঠতি ফরোয়ার্ড শেখ মোরছালিন।
সাবেক কোচ হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর দায়িত্ব নেওয়া ডুলির জন্য এই সাফ মূলত এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। তবে ১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এই সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নিজের চ্যালেঞ্জ নিতে বেশ আত্মবিশ্বাসী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডুলি স্পটভাষায় জানান, প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা জার্মানির মতো পরাশক্তি হোক কিংবা র্যাঙ্কিংয়ে সমপর্যায়ের কোনো দল—মাঠে নামলে তাঁর লক্ষ্য একটাই, আর তা হলো জয় ছিনিয়ে আনা।
দুই দশক ধরে বাংলাদেশের শিরোপা না পাওয়ার বিষাদময় ইতিহাস জানা থাকলেও অতীতে আটকে থাকতে নারাজ এই আমেরিকান কোচ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সঠিক মানসিকতা ও শতভাগ উজাড় করে খেলার মানসিকতা থাকলে সব অসম্ভবকেই সম্ভব করা সম্ভব। ঘরের মাঠের চেনা গ্যালারির আবেগ ও উন্মাদনাকে বড় শক্তিতে রূপান্তর করতে ফুটবলপ্রেমীদের স্টেডিয়ামে এসে লাল-সবুজ দলকে সমর্থনের আহ্বান জানান তিনি।
নতুন কোচের আস্থায় উদ্বুদ্ধ দলের তরুণ তুর্কি শেখ মোরছালিন। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ফাঁদে না পড়ে মাঠে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা উপহার দিতে চান এই ফরোয়ার্ড। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে খেলার বড় সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাফের শিরোপা জয় করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
একই সুর শোনা গেছে দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণের কণ্ঠেও। ২০০৩ সালের স্মরণীয় স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তপু জানান, গ্যালারির বাঁধভাঙা সমর্থন দলের জন্য সবসময়ই বাড়তি শক্তির জোগান দেয়। নিজের মূল কাজ রক্ষণভাগ সামলানো হলেও, কঠিন মুহূর্তে আগের মতো এবারও আক্রমণে উঠে গোল করে দলকে জেতাতে ভূমিকা রাখতে চান এই তারকা রক্ষনসেনা। সব মিলিয়ে দেশের মাটিতে সাফের মঞ্চে সাফল্য পেতে এক নতুন উদ্দীপনায় প্রহর গুনছে বাংলাদেশ ফুটবল।