গতকাল রাতের এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে লিভারপুল মিডফিল্ডার দমিনিক সোবোসলাই এমন এক ভুল করেছিলেন, যা ফুটবল সমালোচকদের চোখে যেন ‘অসাধারণ ভুলের উদাহরণ’। এই ভুলের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই রসিকতার ছলে বলেছিলেন, “ব্যাক-হিলটি হলে হয়তো জীবনজুড়ে কান্নার কারণ হতো।” তবে বাস্তবে তা আরও আশ্চর্যজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।
ম্যাচে লিভারপুল ৪-১ গোলে তৃতীয় স্তরের বার্নসলিকে হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উন্নীত হয়েছে। সোবোসলাইয়ের ভুলের আগে তিনি একটি চমকপ্রদ গোলও করেছিলেন, যা তাঁর খেলার যোগ্যতা তুলে ধরেছে। তবে ভুলটি এতটা নজর কাড়েছে যে, জয়ের আনন্দের মাঝেও তা overshadow করেছে।
লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, “এফএ কাপ হোক বা লিগ ম্যাচ, এমন ভুল হওয়া উচিত নয়। সিদ্ধান্তটি অদ্ভুত ছিল, এবং আমি এ বিষয়ে আমার মতামত ব্যক্ত করব, তবে সেটা দলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখব।”
ভুলটি ঘটেছিল ম্যাচের ৪০ মিনিটে। সোবোসলাই বার্নসলি মিডফিল্ডার অ্যাডাম ফিলিপসের সাথে দৌড়ার সময় বল পেয়ে ব্যাক-হিল করার চেষ্টা করেন। ধারণা করা হয়, লক্ষ্য ছিলেন লিভারপুলের গোলকিপার গিওর্গি মামারদাশভিলি। কিন্তু ব্যাক-হিল সফল হয়নি, ফলে বল ফিলিপসের পায়ে চলে যায় এবং তিনি সহজে গোল করেন।
বার্নসলি কোচ কনোর হাউরিহান এই গোলকে ‘অসম্মানজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “সোবোসলাই চেলসি বা আর্সেনালের মতো দলের বিপক্ষে এমন ভুল করতেন না। প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মানের অভাব লক্ষ্য করা গেছে।”
তবে ম্যাচের শুরুর দিকে, ৯ মিনিটে সোবোসলাই বক্সের বাইরে থেকে ৩৫ গজি দুর্দান্ত একটি গোল করেছিলেন। এছাড়া, তিনি ১০৫টি পাস সম্পন্ন করেছেন এবং ১২ বার বল দখল করেছেন। লিভারপুলের অন্য গোলগুলোর ক্রেডিট যায় জেরেমি ফ্রিমপং, ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস ও হুগো একিতেকে।
নিম্নের টেবিলে সোবোসলাইয়ের ম্যাচের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান দেখানো হলো:
| খেলোয়াড় | গোল | পাস (সম্পন্ন) | বল দখল | উল্লেখযোগ্য ঘটনা |
|---|---|---|---|---|
| দমিনিক সোবোসলাই | ১ | ১০৫ | ১২ | ৩৫ গজি দূরের গোল, ব্যাক-হিল ভুল |
| জেরেমি ফ্রিমপং | ১ | – | – | গোল |
| ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস | ১ | – | – | গোল |
| হুগো একিতে | ১ | – | – | গোল |
ম্যাচ শেষে সোবোসলাই বলেছিলেন, “দলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। একটি সহজ ভুলে পরিস্থিতি কঠিন করেছি।” তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রতিপক্ষের জন্য এটি সত্যিই অসম্মানজনক একটি মুহূর্ত ছিল।
