ঘরের মাঠে বছরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ গ্র্যান্ড স্ল্যাম শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বড়সড় এক ধাক্কা খেল ব্রিটিশ টেনিস অনুরাগীরা। পায়ের গুরুতর চোটের কারণে এবারের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে শেষ সময়ে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের এক নম্বর টেনিস তারকা এমা রাদুকানু। চলতি মাসে কুইন্স ক্লাবের ঘাসের কোর্টে দুর্দান্ত ফর্ম দেখিয়ে সবাইকে বড় কিছুর আশা জুগিয়েছিলেন এই ২৩ বছর বয়সী তরুণী। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতার পর থেকেই পায়ের পাতায় তীব্র অস্বস্তি ও জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ব্যর্থ করে দিয়ে সেই চোটই শেষ পর্যন্ত স্ট্রেস ফ্র্যাকচারে রূপ নিয়েছে।
উইম্বলডনের অফিশিয়াল সূচি অনুযায়ী, বিখ্যাত কোর্ট-১ এ প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার আন্তোনিয়া রুজিচের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ৩০তম বাছাই রাদুকানুর। ঘরের মাঠে চেনা কন্ডিশনে এবং চেনা দর্শকদের সামনে টেনিস কোর্ট মাতানোর জন্য মানসিকভাবে পুরোপুরি মুখিয়ে ছিলেন তিনি। তবে ম্যাচ শুরুর অল্প সময় আগে আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি টেনিসপ্রেমীকে হতাশ করেছেন ২০২১ সালের ইউএস ওপেন জয়ী এই লড়াকু তারকা।
চোটের ভয়াবহতা এবং টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার কষ্ট নিয়ে নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন রাদুকানু। তিনি জানিয়েছেন, ঘরের মাঠের এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্টে খেলার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টাই তিনি করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শেষ রক্ষা হয়নি। আজ রাতে পাওয়া পায়ের চূড়ান্ত স্ক্যান রিপোর্টের পর চিকিৎসকেরা তাকে কোনোভাবেই কোর্টে নামার অনুমতি দেননি। রাদুকানু বলেন, “আমি বেশ কিছুদিন ধরে যে সামান্য ব্যথাটা সাধারণ মনে করে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম এবং খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলাম, স্ক্যানে দেখা গেছে তা আসলে একটি স্ট্রেস ফ্র্যাকচারে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসকেরা আমাকে স্পষ্ট করে বলেছেন, এই অবস্থায় জোর করে খেলতে গেলে ক্যারিয়ারের বড় ধরনের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।”
চোটের পুরোনো ইতিহাস ও রাদুকানুর ক্যারিয়ারের বড় চ্যালেঞ্জ
২০২১ সালে কোয়ালিফায়ার রাউন্ড খেলে এসে সবাইকে চমকে দিয়ে ইউএস ওপেন জিতে রাতারাতি টেনিস দুনিয়ার লাইমলাইটে চলে এসেছিলেন এমা রাদুকানু। তবে সেই রূপকথার সাফল্যের পর থেকেই চোটের সাথে তার লড়াই যেন কোনোভাবেই থামছেই না। কখনো পিঠের সমস্যা, কখনো কবজির চোট এবং এখন এই পায়ের মারাত্মক আঘাত—বারবার তার চেনা ছন্দপতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারের উইম্বলডনে ঘরের মাঠের দর্শকদের বাড়তি সমর্থন পাওয়ার আশা ছিল তার আকাশচুম্বী। তবে স্ক্যান রিপোর্টের চূড়ান্ত ফল আসার পর চিকিৎসকদের কঠোর পরামর্শ মেনে নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো ছাড়া তার সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না।
যেকোনো পেশাদার অ্যাথলেটের জন্যই স্ট্রেস ফ্র্যাকচার একটি অত্যন্ত জটিল এবং সংবেদনশীল সমস্যা। হাড়ের ওপর অনবরত অতিরিক্ত চাপের কারণে সৃষ্ট এই সূক্ষ্ম ফাটল পুরোপুরি নিরাময় হতে দীর্ঘ সময়ের পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। রাদুকানুর শেষ মুহূর্তের এই ছিটকে যাওয়ায় উইম্বলডনের মূল ড্র-তে কিছুটা পরিবর্তন আসবে। নিয়ম অনুযায়ী তার জায়গায় অন্য কোনো খেলোয়াড় লাকি লুজার হিসেবে মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবেন। তবে ব্রিটিশ টেনিসের এই পোস্টার গার্লকে ছাড়া এবারের উইম্বলডন যে স্থানীয় দর্শকদের কাছে কিছুটা হলেও তার আসল জৌলুস হারাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার কবে রাদুকানু চেনা কোর্টে ফিরতে পারেন, টেনিস দুনিয়া এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় থাকবে।
