বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের রাউন্ড অব ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের মুখোমুখি হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি সেলেসাও ভক্তদের চমকে দিয়ে ম্যাচের শুরুটা একেবারেই ভালো হলো না ব্রাজিলের। মাঠের আধিপত্য ধরে রেখে এবং বল পজিশনে এগিয়ে থেকেও ম্যাচের ২৯ মিনিটে জাপানের করা এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক গোলে পিছিয়ে পড়েছে লাতিন আমেরিকার এই ফুটবল পরাশক্তি।
ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর থেকেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও বলের দখল পুরোপুরি ছিল ব্রাজিলের তারকা ফুটবলারদের পায়ে। প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার পর থেকেই তারা ছোট ছোট পাসে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে। অন্যদিকে, ব্রাজিলের চেনা আক্রমণভাগকে সামলাতে জাপানিজ দল শুরু থেকেই বেশ সুশৃঙ্খল ও রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে শুরু করে। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই প্রথমার্ধের প্রথম পরিষ্কার আক্রমণের সুযোগটি তৈরি করে ব্রাজিল। বক্সের একদম প্রান্ত থেকে মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েসের নেওয়া একটি জোরালো শট জাপানি ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলবারের সামান্য পাশ দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।
এর ঠিক দুই মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ওপর দিয়ে ডিফেন্স চেরা এক চোখধাঁধানো বল বাড়ায় ব্রাজিল। তবে গতিশীল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে বল পড়ার আগেই জাপানি গোলকিপার জিওন সুজুকি দারুণ বুদ্ধিমত্তায় নিজের পজিশন ছেড়ে সামনে এগিয়ে আসেন এবং শূন্যে লাফিয়ে দুই হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বল ক্লিয়ার করতে সক্ষম হন।
কাইশু সানোর কাউন্টার অ্যাটাক ও জাপানের লিড
ব্রাজিল যখন প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার জন্য অনবরত চাপ সৃষ্টি করছিল, ঠিক তখনই প্রতি-আক্রমণ বা কাউন্টার অ্যাটাক থেকে অবিশ্বাস্য এক সুযোগ তৈরি করে নেয় জাপান। ম্যাচের ১৬ মিনিটে ব্রাজিলের বক্সের সামান্য বাইরে ফাউল হলে ফ্রি-কিক পায় ব্লু সামুরাইরা। দাইচি কামাদার নেওয়া ফ্রি-কিকটি ব্রাজিলের রক্ষণ দেওয়ালে বা ওয়ালে লেগে মাঠের বাইরে চলে গেলে গুরুত্বপূর্ণ কর্নার পায় জাপান। জুনিয়া ইতোর ইন-সুইঙ্গিং কর্নারটি নিয়ার পোস্টে ব্রাজিলের জন্য বেশ বিপজ্জনক হতে পারত, তবে ডিফেন্সে সাহায্য করতে আসা অভিজ্ঞ কাসেমিরো দারুণ এক হেডে বল ক্লিয়ার করে সে যাত্রা সেলেসাওদের রক্ষা করেন।
তবে ম্যাচের ২৯ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি ব্রাজিলের। নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে বল কেড়ে নিয়ে তীব্র গতিতে মাঝমাঠ ধরে ওপরে ওঠে জাপান। মাঝমাঠ থেকে বল পায়ে নিয়ে ব্রাজিলের ব্যাকলাইন ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে ড্রিবলিংয়ের চমৎকার এক প্রদর্শনী দেখান কাইশু সানো। এরপর ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত এক কোণাকুণি শটে ব্রাজিলের গোলকিপারকে পুরোপুরি পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। জাপানের জার্সি গায়ে কাইশু সানোর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল এটি। আর এই ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় গোলের ওপর ভর করেই ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে লিড নিয়ে ফেবারিট ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে জাপান। বিশ্বমঞ্চের এই নকআউট ম্যাচে টিকে থাকতে হলে এখন ব্রাজিলকে তাদের আক্রমণভাগের ধার আরও অনেক বাড়াতে হবে।
