স্প্যানিশ সুপার কাপের সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই রিয়াল দাপট দেখায়। জাভি আলোন্সোর অধীনে খেলোয়াড়রা মাঠে খেলোয়াড়িত্ব ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সংমিশ্রণ উপস্থাপন করে দর্শকদের মুগ্ধ করে।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই জুড বেলিংহ্যামের ওপর ফাউল থেকে প্রাপ্ত ফ্রি-কিক থেকে অসাধারণ গোল করেন ফেদেরিকো ভালভের্দে। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শক্তিশালী শটে তিনি রিয়ালকে এগিয়ে দেন। প্রথম গোলের পর অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং একাধিক সুযোগ তৈরি করে। তবে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকান। আলেক্স বায়েনা এবং আলেকসান্দার সরলথের কয়েকটি শটও কোর্তোয়া রুখে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে ভালভের্দের পাস পেয়ে একক প্রচেষ্টায় গোল করেন রদ্রিগো। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে পান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তিন মিনিট পর অ্যাথলেটিকো ব্যবধান কমানোর সুযোগ কাজে লাগায়। জুলিয়ানো সিমেওনের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন সরলথ। পরবর্তী আক্রমণেও অ্যাথলেটিকো সমতায় ফিরতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচের শেষভাগে আলোন্সো ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জায়গায় আর্দা গুলারকে নামান। এর ফলে ভিনিসিয়ুসের গোল না পাওয়ার ধারাবাহিকতা দাঁড়ায় টানা ১৬ ম্যাচে। মাঠ ছাড়ার সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে অ্যাথলেটিকো কোচ দিয়েগো সিমেওনে হলুদ কার্ড পান।
পরিসংখ্যানে ছিলো আকর্ষণীয় বৈপরীত্য:
| দল | বল দখল (%) | শট সংখ্যা | লক্ষ্যে শট |
|---|---|---|---|
| অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ | ৫৫ | ২২ | ৬ |
| রিয়াল মাদ্রিদ | ৪৫ | ৮ | ৪ |
চোটের কারণে কিলিয়ান এমবাপ্পে না থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ নতুন বছরের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় তুলে নেয়। একই সঙ্গে গত সেপ্টেম্বরের লা লিগায় অ্যাথলেটিকোর কাছে ৫–২ গোলে হারের প্রতিশোধও নেয় তারা।
ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ আগামী রোববার জেদ্দায় মুখোমুখি হবে বার্সেলোনার সঙ্গে। বার্সা অপর সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিকো বিলবাওকে ৫–০ গোলে উড়িয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। এই ফাইনাল হবে দুই ফুটবল মহাশক্তি—রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা—এর টানা চতুর্থ ‘এল ক্ল্যাসিকো’ মুখোমুখি লড়াই।
