সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনী করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে মালদ্বীপ নারী ফুটবল দলের বিপক্ষে ২-১ গোলে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরুতেই দ্রুততম সময়ে গোল করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। খেলা শুরুর মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করেন আনিকা রানিতা সিদ্দিকী। কিক অফের পর মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তার বাড়ানো নিচু ক্রস প্রথম স্পর্শেই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান আনিকা। এত দ্রুত সময়ে গোল পাওয়ায় ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে বাংলাদেশ দল।
সুইডেনপ্রবাসী এই ফরোয়ার্ডের জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল প্রথম গোল। গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশের জার্সিতে তার অভিষেক হয়। প্রথম তিন ম্যাচে গোল না পেলেও চতুর্থ ম্যাচে এসে গোলের দেখা পেলেন তিনি। শুরুতেই গোল করার মাধ্যমে দলে নিজের কার্যকারিতারও প্রমাণ রাখেন আনিকা।
প্রথম গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি বাংলাদেশ। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই প্রায় সরাসরি কর্নার থেকে গোল পেয়ে যাচ্ছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তার নেওয়া বাঁকানো কর্নার পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপরও মালদ্বীপের রক্ষণভাগের ওপর ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখে বাংলাদেশ।
দ্বাদশ মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি হয়। ঋতুপর্ণার নিচু ক্রস থেকে গোলমুখে থাকা শামসুন্নাহার জুনিয়র শট নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বল প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের গায়ে লেগে পুনরায় শামসুন্নাহারের শরীরে স্পর্শ করে বাইরে চলে যায়। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় বোঝা যাচ্ছিল, বাংলাদেশ দ্রুত দ্বিতীয় গোলের খোঁজে রয়েছে।
ম্যাচের ২৮তম মিনিটে বাংলাদেশের আরেকটি আক্রমণ ক্রসবারে বাধা পায়। ঋতুপর্ণার থ্রু পাস ধরে অধিনায়ক মারিয়া মান্দা বক্সের ভেতরে আড়াআড়ি ক্রস বাড়ান। দূরের পোস্টে থাকা শামসুন্নাহার জুনিয়রের নেওয়া শট ক্রসবারের ওপরের অংশে লেগে বাইরে চলে যায়। এই আক্রমণেও মালদ্বীপের রক্ষণভাগ চাপে পড়ে যায়।
ক্রমাগত আক্রমণের ফল আসে ৩৪তম মিনিটে। শামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো বল থেকে কাছের পোস্ট দিয়ে নিচু শটে গোল করেন উমেহ্লা মারমা। দ্বিতীয় গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে যায় এবং মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গঠনে আরও স্বচ্ছন্দ দেখা যায় দলকে।
এর কিছুক্ষণ পর ডান প্রান্ত থেকে আফঈদা খাতুন দূরপাল্লার শট নেন। তবে মালদ্বীপের গোলরক্ষক বলটি ফিস্ট করে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন। বাংলাদেশের একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে বেশ চাপে থাকতে দেখা যায়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ আরও একটি গোল করতে পারে। তবে খেলার ধারার বিপরীতে গোল পেয়ে ব্যবধান কমায় মালদ্বীপ। ৪১তম মিনিটে মরিয়ম নোরার দূরপাল্লার শট বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তারের মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে ক্রসবারে লেগে জালে প্রবেশ করে। এতে প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১।
প্রথমার্ধজুড়ে বল দখল, আক্রমণ তৈরির সংখ্যা এবং গোলের সুযোগ সৃষ্টির দিক থেকে বাংলাদেশ পরিষ্কারভাবে এগিয়ে ছিল। বিশেষ করে ঋতুপর্ণা চাকমার গতিময় আক্রমণ, মাঝমাঠের সমন্বিত পাসিং এবং দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ সাজানোর কৌশল মালদ্বীপের রক্ষণকে বেশ কয়েকবার বিপদে ফেলে।
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে বাংলাদেশ নারী দলকে এবারও অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন প্রথম ম্যাচের প্রথমার্ধেই দেখা গেছে। দ্রুতগতির আক্রমণ, সমন্বিত দলীয় ফুটবল এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখার কৌশলে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
