তিন ওভারে তিন ক্যাচ ফেলে আফসোসে বাংলাদেশ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত সূচনা পেলেও বাংলাদেশের ফিল্ডারদের একটানা ভুল ম্যাচের উত্তেজনা ও সমর্থকদের আশা ভেঙে দিয়েছে। ইনিংসের চতুর্থ বলেই আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি ব্যালবার্নিকে এলবিডব্লিউ আউট করে আত্মবিশ্বাসী সূচনা পায় টাইগাররা। হাসান মাহমুদ অধিনায়ক ব্যালবার্নিকে শূন্যে ফেরালে মনে হচ্ছিল, প্রথম সেশনটি বাংলাদেশের জন্য সমৃদ্ধ হবে।

কিন্তু এরপর ঘটে তিন ওভারের দুঃস্বপ্ন। দ্বিতীয় স্লিপে সাদমান ইসলাম একটি সহজ ক্যাচ মিস করেন, তখন স্টারলিংয়ের স্কোর মাত্র ৮। পরের ওভারে তাইজুল ইসলাম শর্ট মিড উইকেটে সহজ একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন, যা ১০ রানে কারমাইকেলকে বাঁচিয়ে দেয়। ষষ্ঠ ওভারে তৃতীয় স্লিপে মেহেদী হাসান মিরাজ আরেকটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেন, আর স্টারলিং বাঁচে।

এই তিন জীবন পেয়ে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটাররা সাবধানী ব্যাটিং শুরু করেন। তারা ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে আসেন। ৯তম ওভারে নাজমুল হোসেন শান্ত স্পিন আক্রমণ শুরু করেন, তবে কোনও সুবিধা পাননি। ১৪তম ওভারে অভিষিক্ত হাসান মুরাদও বোলিংয়ে নামেন, তবু জুটি ভাঙতে পারেননি।

মধ্যাহ্ন বিরতির আগের একটি ওভারে তাইজুলের বলে কারমাইকেলের ব্যাটের বাইরের পাশে লেগে বল চলে যায় কিপার ও প্রথম স্লিপের মাঝ দিয়ে, আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হয়। পরের ওভারে মিরাজের বলে নবাগত ব্যাটার রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মাত্র অল্পের জন্য বোল্ড হওয়া থেকে বাঁচেন।

শেষ পর্যন্ত পল স্টারলিং ও ক্যাড কারমাইকেল নিজেদের ধৈর্য ধরে রাখেন এবং অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আয়ারল্যান্ডকে শক্ত ভিত্তিতে পৌঁছে দেন। প্রথম সেশনের শেষে স্কোর: ১ উইকেটে ৯৪ রান।

প্রথম সেশনের খেলার পর বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, “তিন ওভারে তিন ক্যাচ হাতছাড়া করেই বাংলাদেশের এই সেশনের প্রতিক্রিয়া স্থির হয়।” রোদের তাপে ক্লান্ত হলেও দলের মনোবল ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরবর্তী সেশনে পেসার ও স্পিনারদের কাজ এখন আরও কঠিন হবে।

Leave a Comment