জেদ্দায় অনুষ্ঠিত স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩–২ গোলে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছে বার্সেলোনা। কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের জন্য এটি ছিল বার্সেলোনার হয়ে তৃতীয় ফাইনাল—and প্রতিটি ফাইনালেই জয় এসেছে। এমনকি প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বীও ছিল একই দলের—চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ।
গত মৌসুমে বার্সেলোনা সুপার কাপ ও কোপা দেল রে জিতেছিল, আর এবার সেই সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত হলো আরেকটি সুপার কাপ। এভাবে ফ্লিক বার্সেলোনার কোচ হিসেবে ফাইনালে তিনবার অংশ নিয়ে তিনবারই জিতেছেন, যা সত্যিই বিরল কৃতিত্ব।
ফ্লিকের ফাইনাল রেকর্ড শুধু স্প্যানিশ ক্লাবেই সীমাবদ্ধ নয়। বায়ার্ন মিউনিখের দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি পাঁচটি ফাইনালে জয় নিশ্চিত করেছিলেন। ২০২০ সালে তার কোচিংয়ে বায়ার্ন জিতেছিল জার্মান কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ এবং জার্মান সুপার কাপ। সব মিলিয়ে আটটি ফাইনাল খেলে এখন পর্যন্ত ফ্লিক অপরাজিত, যা ফুটবল ইতিহাসে খুব কমন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক বলেন, “ফাইনালে জয়ের পেছনে কোনো গোপন কৌশল নেই। মূল বিষয় হলো প্রতিপক্ষের চেয়ে এক গোল বেশি করা।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই সাফল্য পুরোপুরি খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের কারণে সম্ভব হয়েছে। অতীতের সাফল্য নিয়ে ভাবা আমার আগ্রহের বিষয় নয়।”
ফ্লিক বলেন, “ক্লাসিকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় সবসময়ই বিশেষ। আমি দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট এবং গর্বিত। বার্সেলোনা পুরো ম্যাচ জুড়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে নিজেদের পরিচিত স্টাইলের ফুটবল খেলেছে।”
নিচের টেবিলে হ্যান্সি ফ্লিকের ফাইনাল রেকর্ড সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| ক্লাব | ফাইনাল সংখ্যা | জয় | হার | গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট |
|---|---|---|---|---|
| বায়ার্ন মিউনিখ | ৫ | ৫ | ০ | জার্মান কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ, জার্মান সুপার কাপ |
| বার্সেলোনা | ৩ | ৩ | ০ | স্প্যানিশ সুপার কাপ, কোপা দেল রে |
| মোট | ৮ | ৮ | ০ | — |
ফ্লিকের এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে, বড় ম্যাচে জয়ের জন্য প্রয়োজন শুধু কৌশল নয়, মানসিক দৃঢ়তা, দলের আত্মবিশ্বাস এবং নিয়ন্ত্রণ—যা বার্সেলোনার এই জয়কে আরও অর্থবহ করেছে।
