নরওয়ে চ্যালেঞ্জে বদলে যাচ্ছে ব্রাজিলের একাদশ

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এরপরই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ইউরোপের শক্তিশালী দল নরওয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দুই দলই মাঠে নামবে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ২টায় নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।

শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। একই ব্যবধানে আইভরি কোস্টকে বিদায় করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়েও। ফলে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

তবে ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা ঊরুর চোটে ছিটকে গেছেন। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচেই চোট পাওয়া এই মিডফিল্ডারের বিশ্বকাপের বাকি অংশে খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে মাঝমাঠের ভারসাম্য ধরে রাখতে নতুন পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে।

সর্বশেষ অনুশীলনে পাকেতার পরিবর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিকে খেলিয়ে দেখেছেন আনচেলত্তি। স্বাভাবিকভাবে তিনি ফরোয়ার্ড হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী বাঁ দিক থেকে কিছুটা নিচে নেমে খেলতে পারেন। কোচিং স্টাফের বিশ্বাস, এতে মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি আক্রমণে দ্রুত রূপান্তর ঘটানো সহজ হবে। তবে ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা করা হবে।

পাকেতার অনুপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য বড় ক্ষতি হলেও শিবিরে রয়েছে স্বস্তির খবর। চোট কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন রাফিনিয়া এবং তাকে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরোপুরি ফিট রয়েছেন নেইমার জুনিয়রও। তার উপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণে বাড়তি ধার যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারায়েস ও ম্যাথেউস কুনিয়ার দিকেও থাকবে সমর্থকদের বিশেষ নজর।

অন্যদিকে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে নরওয়ে। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগোরের সৃজনশীলতা, এরলিং হালান্ডের গোল করার অসাধারণ দক্ষতা এবং আলেকজান্ডার সোরলোথের অভিজ্ঞতা তাদের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। মাঝমাঠে প্যাট্রিক বার্গ ও স্যান্ডার বের্গের সমন্বয়ও দলের বড় শক্তি।

ম্যাচটিকে ঘিরে আলোচনায় রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী পরিসংখ্যান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়ের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হলেও একবারও জয়ের স্বাদ পায়নি ব্রাজিল। দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইটি হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় তুলে নিয়ে চমক দেখিয়েছিল নরওয়ে। তাই এবার ব্রাজিলের লক্ষ্য শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নয়, দীর্ঘদিনের সেই হতাশাজনক পরিসংখ্যানও বদলে দেওয়া।

অন্যদিকে নরওয়ে চাইবে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখতে। তাই কাগজে-কলমে ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখা হলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, অতীতের পরিসংখ্যান এবং দুই দলের তারকাবহুল স্কোয়াড বিবেচনায় শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এই ম্যাচ।

দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ

ব্রাজিল: অ্যালিসন বেকার, দানিলো, মার্কুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ডগলাস সান্তোস, ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারায়েস, রাফিনিয়া অথবা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি, নেইমার জুনিয়র, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ম্যাথেউস কুনিয়া।

নরওয়ে: ওরইয়ান নাইল্যান্ড, মার্কুস হোমগ্রেন পেডারসেন, তোরবিয়র্ন হেগেম, ক্রিস্টোফার আয়ের, ডেভিড উলফ, প্যাট্রিক বার্গ, স্যান্ডার বের্গে, মার্টিন ওডেগোর, আলেকজান্ডার সোরলোথ, এরলিং হালান্ড, আন্তোনিও নুসা।

মন্তব্য করুন