রাফিনিয়ার ফেরায় স্বস্তিতে ব্রাজিল

২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় স্বস্তির খবর পেয়েছে ব্রাজিল। ইনজুরি কাটিয়ে দলের অনুশীলনে ফিরেছেন তারকা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। তিনি এখনো পুরোপুরি ফিট না হলেও শেষ ষোলোর ম্যাচের স্কোয়াডে থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচই ব্রাজিলের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। তাই অভিজ্ঞ এই উইঙ্গারের প্রত্যাবর্তন দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে থাকা নরওয়ের বিপক্ষে কঠিন এক পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে সেলেসাওরা। এমন একটি ম্যাচের আগে আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ফিরে পাওয়াকে বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ডান উরুর হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান রাফিনিয়া। সেই ইনজুরির কারণে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ এবং জাপানের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে মাঠের বাইরে থাকতে হয় ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে। যদিও তার অনুপস্থিতিতেও ব্রাজিল নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে, তবু আক্রমণে তার অভাব স্পষ্ট ছিল।

বার্সেলোনার এই তারকা গত কয়েক বছরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতির আক্রমণ, নিখুঁত ড্রিবলিং, কার্যকর ক্রস এবং গোলের সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত করেছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নরওয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাসের কারণ।

শনিবার (৪ জুলাই) ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রাফিনিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানান, ফরোয়ার্ডটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং এখন দলের সঙ্গে থাকার মতো অবস্থায় রয়েছেন।

আনচেলত্তি বলেন, “রাফিনিয়া খুব ভালোভাবে সেরে উঠছে। সে এখনো শতভাগ ফিট নয়, তবে বেঞ্চে থাকার মতো অবস্থায় আছে। প্রয়োজন হলে কয়েক মিনিট মাঠে নামতে পারবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।”

তিনি আরও বলেন, “রাফিনিয়ার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা আমাদের জন্য দারুণ খবর। সে দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। তার অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণভাগে গতি এনে দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের বাড়তি সুবিধা দেবে।”

শনিবারের অনুশীলনে পুনর্বাসন কার্যক্রমের পাশাপাশি সতীর্থদের সঙ্গে আংশিকভাবে বলের অনুশীলনও করেছেন রাফিনিয়া। চিকিৎসক ও ফিটনেস বিভাগের মূল্যায়ন অনুযায়ী তার শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে তার থাকা এখন প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

তবে শুরু থেকেই তাকে একাদশে দেখা যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কোচিং স্টাফ ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্বিতীয়ার্ধে তাকে বদলি হিসেবে নামানোর পরিকল্পনা করতে পারে। বিশেষ করে ম্যাচের গতি পরিবর্তন, উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলা কিংবা প্রতিপক্ষের রক্ষণে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করার প্রয়োজন হলে রাফিনিয়ার অভিজ্ঞতা বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

নরওয়ের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করাই এখন ব্রাজিলের একমাত্র লক্ষ্য। সেই মিশনের আগে রাফিনিয়ার প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে সেলেসাও শিবিরে ইতিবাচক বার্তা এনে দিয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ না হলেও তার উপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, গুরুত্বপূর্ণ এই নকআউট ম্যাচে আনচেলত্তি শেষ পর্যন্ত রাফিনিয়াকে কীভাবে এবং কতটা সময়ের জন্য ব্যবহার করেন।

মন্তব্য করুন