প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড মিলনারের

ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসে নিজের নাম উজ্জ্বল করে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জেমস মিলনার। গ্যারেথ ব্যারিকে ছাড়িয়ে তিনি এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়। প্রিমিয়ার লিগে তার মোট খেলা ম্যাচ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫৪, যা ইউরোপের শীর্ষ লিগে দীর্ঘকালীন ধারাবাহিকতা ও দক্ষতার প্রতীক।

৪০ বছর বয়সেও ব্রাইটনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে মাঠে নামা মিলনারের ক্যারিয়ার সত্যিই নজরকাড়া। দীর্ঘ ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ছয়টি ক্লাবের জার্সি গায়ে চড়েছেন এবং প্রতিটি ক্লাবের জন্য উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

মিলনারের ক্লাব ও প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ সংখ্যা

ক্লাবসময়কালপ্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ
লিভারপুল২০১০–২০১৮৩৩২
ম্যানচেস্টার সিটি২০০৯–২০১০১৪৭
অ্যাস্টন ভিলা২০০৬–২০০৯১০০
নিউক্যাসল২০০৪–২০০৬৯৪
লিডস ইউনাইটেড২০০২–২০০۴৪৮
ব্রাইটন২০১۷–বর্তমান৩৫

মিলনারের প্রিমিয়ার লিগে অবদান শুধুমাত্র উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়। ক্যারিয়ারের মধ্যে তিনি করেছেন ৫৬টি গোল এবং ৯০টি অ্যাসিস্ট। প্রিমিয়ার লিগে তার প্রথম গোলটি আসে ২০০২ সালের ডিসেম্বরে, যখন মাত্র ১৬ বছর ৩৫৬ দিনের বয়সে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে বক্সিং ডে ম্যাচে জোরালো শট করেছিলেন। এই কনিষ্ঠ গোলের রেকর্ড পরে ২০০৫ পর্যন্ত টিকে ছিল।

প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় মিলনারের পরে রয়েছেন এমন কিংবদন্তিরা: রায়ান গিগস (৬৩২), ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড (৬০৯), ডেভিড জেমস (৫৭২), মার্ক শোয়ার্জার (৫৪৪), গ্যারি স্পিড (৫৩৫), এমিল হেস্কি (৫১৬), জেমি ক্যারাগার (৫০৮), ফিল নেভিল (৫০৫)

ইএসপিএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিলনার প্রিমিয়ার লিগে মোট ৩৮,৩৬১ মিনিট খেলেছেন, যা প্রায় ৬৩৮ ঘন্টা বা ২৬.৬ দিন। মোট খেলার মিনিটের ভিত্তিতে তার প্রিমিয়ার লিগে দৌড়ের দূরত্ব প্রায় ৫,৪১৪,৩২৬ মিটার (৩,৩৬৪ মাইল), যা নিউ ইয়র্ক থেকে লন্ডন পর্যন্ত দূরত্বের সমান। প্রতি ম্যাচে তার গড় দৌড়ের পরিমাণ ৮.২৯ কিমি, যা একটি ফুটবল মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ৮০ বার দৌড়ানোর সমতুল্য।

কিশোর প্রতিভা থেকে প্রিমিয়ার লিগের আইকন—মিলনার তার অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখেছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে কঠিন লিগে নিয়মিত খেলেই তিনি প্রমাণ করেছেন যে ধারাবাহিকতা এবং পেশাদারিত্ব মিলিয়ে কোনো খেলোয়াড়কে কিংবদন্তি হিসেবে গড়ে তোলে।

Leave a Comment