দেশের ঘরোয়া ফুটবল অঙ্গনে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় পর্বকে সামনে রেখে দলবদলের বাজারে নতুন চমক সৃষ্টি করেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়ন। প্রথম পর্বে নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার ফুটবলারদের আধিক্য দেখা গেলেও দ্বিতীয় পর্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান। সত্তরের দশকের পর এই প্রথম বাংলাদেশের মাঠে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি ফুটবলারের উপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
Table of Contents
ব্রাদার্সের বড় সিদ্ধান্ত: একসঙ্গে পাঁচ পাকিস্তানি
গত ৩১ জানুয়ারি শেষ হওয়া মধ্যবর্তী দলবদলে ব্রাদার্স ইউনিয়ন পাকিস্তান জাতীয় দলের পাঁচজন নিয়মিত সদস্যকে চুক্তিবদ্ধ করেছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈচিত্র্যময় দেশ থেকে খেলোয়াড় না নিয়ে এক দল থেকে খেলোয়াড় নিলে তাদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো হবে, এই চিন্তা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের উচ্চ পারিশ্রমিকের তুলনায় পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সাশ্রয়ী হওয়াও একটি বড় কারণ।
নিচে ব্রাদার্স ইউনিয়নে যোগ দেওয়া পাঁচ পাকিস্তানি ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল তুলে ধরা হলো:
| খেলোয়াড়ের নাম | পজিশন | পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ সংখ্যা |
| উমর হায়াত | ডিফেন্ডার | ২২টি |
| আলমগীর গাজী | মিডফিল্ডার | ১৮টি |
| শায়েক দোস্ত | উইঙ্গার | ১৬টি |
| আবদুল্লাহ শাহ | ডিফেন্ডার | ৭টি |
| হায়ান খাট্টাক | মিডফিল্ডার | ১টি |
ব্রাদার্সের বিদেশি শক্তিবৃদ্ধি
পাকিস্তান থেকে আসা এই পাঁচজন ছাড়াও ব্রাদার্সের স্কোয়াডে থাকছেন আরও পাঁচজন ভিনদেশি খেলোয়াড়। সার্কভুক্ত দেশের খেলোয়াড়দের ‘বিদেশি’ হিসেবে গণ্য না করার নিয়মের সুযোগে ব্রাদার্স কার্যত দশজন ভিনদেশি শক্তির দলে পরিণত হচ্ছে।
গিনি: ৩ জন ফুটবলার।
নাইজেরিয়া: ১ জন ফুটবলার।
সেনেগাল: ১ জন ডিফেন্ডার (প্রথম লেগ থেকে সংরক্ষিত)।
প্রথম লেগে খেলা চারজন নেপালি ফুটবলার নিজ দেশের জাতীয় লিগে অংশ নিতে ব্রাদার্স ছেড়েছেন। তাদের শূন্যস্থান পূরণে এই শক্তিশালী বহর সাজিয়েছে গোপীবাগের দলটি।
পিডব্লিউডির দুই তুরুপের তাস
ব্রাদার্সের পাশাপাশি নবাগত পিডব্লিউডি স্পোর্টিং ক্লাবও পিছিয়ে নেই। তারা পাকিস্তান জাতীয় দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার আলী উজাইর মাহমুদ (২৯ বছর, ২১ ম্যাচ) এবং উদীয়মান গোলকিপার উসমান আলীকে দলে ভিড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, আলী উজাইর গত বছর মালদ্বীপের লিগে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, যা পিডব্লিউডির রক্ষণে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
ইতিহাসের পাতা থেকে: কালা গফুরের স্মৃতি
বাংলাদেশে পাকিস্তানি ফুটবলারদের খেলার ইতিহাস বেশ পুরনো হলেও দীর্ঘ বিরতিতে তা বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গিয়েছিল। প্রখ্যাত ফুটবল ব্যক্তিত্ব গোলাম সারোয়ার টিপুর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালে ঢাকা মোহামেডানে খেলে গেছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ফুটবলার কালা গফুর, ফজল ও আশিক। পরবর্তীতে আমির বক্স নামে আরও একজন ফুটবলার সাদা-কালো শিবিরে যোগ দিলেও আশির দশকের পর থেকে গত প্রায় সাড়ে চার দশকে পাকিস্তানের কাউকে বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগে দেখা যায়নি।
দ্বিতীয় পর্বের প্রেক্ষাপট
জাতীয় নির্বাচনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে লিগের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এখনো আনুষ্ঠানিক সূচি ঘোষণা করেনি, তবে ক্লাবগুলো তাদের নতুন রিক্রুটদের ঢাকায় আনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ১০ জন বিদেশি মানের খেলোয়াড় নিয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়ন দ্বিতীয় পর্বে পয়েন্ট টেবিলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা দেখতে মুখিয়ে আছে ফুটবল বোদ্ধারা।
