২৫ জানুয়ারি, মধ্য মেক্সিকান রাজ্য গুয়ানাজুয়াতোর সালামানকা শহরের একটি ফুটবল মাঠে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানানো হয়েছে, হামলাটি অজ্ঞাতদ্বারা চালানো হলেও তা স্থানীয় গ্যাং সংঘর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
মেয়রের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান। আহতদের চিকিৎসা চলমান। আমরা দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অবিলম্বে অভিযান শুরু করেছি।”
পুলিশ সূত্র জানায়, হামলার সময় মাঠে স্থানীয় ফুটবল খেলা চলছিল। সশস্ত্র অপরাধীরা হঠাৎ প্রবেশ করে লক্ষ্যভিত্তিক গুলি চালায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনা তার আগের রাতের ঘটনায় যোগ হয়েছে, যখন ২৪ জানুয়ারি রাতে একই শহরে চারটি ব্যাগে মানব দেহাবশেষ পাওয়া যায়। গুয়ানাজুয়াতো শিল্প ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সমৃদ্ধ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এটি গ্যাং টার্ফ যুদ্ধ ও সহিংসতার জন্য পরিচিত।
মেক্সিকান রাষ্ট্রপতি ক্লডিয়া শেইনবাউম ২০২৬ সালের শুরুতে জানিয়েছেন, তার প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের ফলে ২০২৫ সালে হত্যার হার এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবে, স্থানীয় গ্যাং সংক্রান্ত সহিংসতা এখনও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিচের টেবিলে হামলার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| তারিখ | স্থান | মৃতের সংখ্যা | আহতের সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ২৫ জানুয়ারি | সালামানকা, গুয়ানাজুয়াতো | ১১ | ১২ | ফুটবল মাঠে সশস্ত্র হামলা |
| ২৪ জানুয়ারি | সালামানকা, গুয়ানাজুয়াতো | ৪ (দেহাবশেষ) | – | চারটি ব্যাগে মানব দেহাবশেষ উদ্ধার |
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানান, হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গুয়ানাজুয়াতোর এই ধরনের হত্যাকাণ্ড দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্প এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সমৃদ্ধ হলেও গ্যাং সহিংসতার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে।
