কোহলির সেঞ্চুরি হয়নি—কিন্তু ৩০২ রানে যে ইতিহাস গড়লেন, তা আগে কখনো হয়নি!

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের সিরিজ জয়ের এই ম্যাচটি যে দীর্ঘদিন স্মরণীয় থাকবে, তা বললে ভুল হবে না। আজকের ম্যাচে দর্শকরা যেমন পেয়েছেন জয়সোয়ালের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস, তেমনি পেয়েছেন কোহলির স্থিরতা ও শক্তিশালী মানসিকতার আরেকটি উদাহরণ। ম্যাচের ফলাফল ছিল একতরফা, কিন্তু এর প্রতিটি মুহূর্ত ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর।

প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর ভারত যে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা সংগ্রহ করে ২৭০ রান। এই রান একসময় ভালোই মনে হয়েছিল, বিশেষ করে যখন কুইন্টন ডি ককের ১০৬ রানের অসাধারণ ইনিংস স্কোরবোর্ডে ভরসা যোগায়। কিন্তু ব্যাটিং লাইনআপের অন্য সদস্যদের ব্যর্থতায় তারা ইনিংস বড় করতে পারেনি। ভারতের পেসার প্রসিধ কৃষ্ণার ৪ উইকেট ছিল ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।

ভারত যখন রান তাড়ায় নামে, মনে হয়েছিল ম্যাচ হতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বিতার। কিন্তু রোহিত শর্মা ও যশস্বী জয়সোয়ালের বিচক্ষণ ব্যাটিং ম্যাচটিকে শুরু থেকেই ভারতের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। রোহিত নিজের স্বভাবসুলভ ইনিংস খেলে ৭৫ রানে আউট হলেও, যে ভিত্তি তিনি রেখে গেছেন, সেটি ভারতের ব্যাটিংকে নিশ্চিততার দিকে এগিয়ে দেয়।

ম্যাচের মোড় ঘোরে তখন, যখন কোহলি ক্রিজে আসেন। মাত্র কিছুদিন আগেই দুই সেঞ্চুরি করার পর এই ম্যাচে নজর ছিল তাঁর হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু টার্গেটের কম চাপ এবং ম্যাচ পরিস্থিতি তাঁকে দীর্ঘ ইনিংস খেলার সুযোগ দেয়নি। তারপরও তিনি ৪৫ বলে ৬৫* রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন। ওটনিল বার্টম্যানের বলে ছক্কা মেরে ফিফটিতে পৌঁছানোর পর গোটা স্টেডিয়াম যেন উচ্ছ্বাসে কেঁপে ওঠে। তিনি সেঞ্চুরি করতে না পারলেও, তিন ম্যাচে ৩০২ রান করে নিজের পূর্বের ২৮৩ রানের সিরিজ–রেকর্ড ভেঙে দিলেন অবলীলায়।

কিন্তু ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক নিঃসন্দেহে যশস্বী জয়সোয়াল। শুরুর দিকে কিছুটা সময় নিয়ে খেললেও তিনি ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রথম ৫০ রান আসে ৭৫ বলে—কিন্তু পরের ৫০ তিনি করেন মাত্র ৩৬ বলে। চতুর্থ ওয়ানডে খেলেই সেঞ্চুরি করা যে কোনো ওপেনারের জন্য স্বপ্নের মতো ব্যাপার। তাঁর ব্যাটে ছিল নিখুঁত টাইমিং, শট সিলেকশন এবং চাপ সামলানোর দারুণ ক্ষমতা। শেষ পর্যন্ত কোহলির সঙ্গে তাঁর ১১৬ রানের অপরাজিত জুটি ভারতকে ৯ উইকেটে দাপুটে জয় এনে দেয়।

সিরিজে ২–১ ব্যবধানে জিতে ভারত শুধু জয়ই পায়নি, বরং পেয়েছে ভবিষ্যতের বিশাল সম্ভাবনা। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের সুন্দর মিশ্রণ যে ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও উন্নত করতে পারে, এই ম্যাচ তার সর্বশেষ প্রমাণ।

Leave a Comment