একসময় বিপিএল মানেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস, আর কুমিল্লা মানেই সালাহউদ্দীন। তাঁর কৌশলগত দক্ষতা এবং ঠান্ডা মাথার নেতৃত্ব বিপিএলে তৈরি করেছিল আলাদা গল্প। চারটি শিরোপা জয় তাঁর অবস্থানকে নিয়ে যায় অনন্য স্তরে। কিন্তু কালের প্রবাহে ছবি বদলেছে। কুমিল্লা নেই, বিপিএলেও নেই তিনি। এখন তিনি জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ, আর সেখানে তাঁর দায়িত্বের পরিসর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়।
২৬ ডিসেম্বর বিপিএলের নতুন মৌসুম সামনে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই সাংবাদিকদের কৌতূহল—এত ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও সালাহউদ্দীন কি বিপিএলকে মিস করেন? তিনি মৃদু হাসলেন, তারপর বললেন,
“আমি সাধারণভাবে কোনো কিছু মিস করি না।”
এই বক্তব্যের অন্তরালে রয়েছে এক ধরনের প্রশান্তি এবং প্রাপ্তবয়স্ক দৃষ্টিভঙ্গি। বছরের পর বছর লড়াই, পরিকল্পনা, সাফল্যের চাপ—সবকিছু যেন এখন নতুন রূপ পেয়েছে জাতীয় দলের দায়িত্বে। আজ তিনি সাংবাদিকদের সামনে এসেছিলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন শেষে—জাতীয় দলের সাদা বলের ক্রিকেটারদের নিয়ে বিশেষ ব্যাটিং ক্যাম্প।
৬ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই বিশেষ ক্যাম্পের লক্ষ্য পরিষ্কার—তরুণ ও সিনিয়র ব্যাটসম্যানদের স্কিল উন্নয়নে গভীর মনোযোগ দেওয়া। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে যে ঘাটতিগুলো পূরণ করা যায় না, সেগুলোই এখন সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছে দল। সালাহউদ্দীন বলেন,
“অনেক সময় আপনারাই বলেন স্কিলের ঘাটতি আছে। কিন্তু কাজ করার সময় পাই না। তাই এই ক্যাম্প খুবই জরুরি।”
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতি স্পষ্ট। তবে উন্নতির জায়গা আরও অনেক। কীভাবে ঝুঁকি কমিয়ে রান বাড়ানো যায়, বলের গতি কাজে লাগানো যায়, শট প্লেসমেন্ট উন্নত করা যায়—এসব নিয়েই চলছে দিনব্যাপী পরিশ্রম।
তিনি ব্যাখ্যা করেন,
“ভালো শট খেলেও ক্যাচ হয়। কারণ গ্যাপ চোখে পড়ছে না। সেটি ঠিক করাই এখন লক্ষ্য।”
অন্যদিকে, জাতীয় দল ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টিতে ১৫ ম্যাচ জিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে রেকর্ড গড়েছে। সিরিজ ধরে সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কারণেই এসেছে এই উন্নতি। তবে সালাহউদ্দীনের মতে, এটি কেবল শুরু।
বিপিএলকে মিস করা? হয়তো তিনি সত্যিই করেন না। কারণ এখন যে দায়িত্ব তাঁর কাঁধে, তা শুধু জয়ের হিসাব নয়—এটা একটি জাতির ক্রিকেট কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার যাত্রা। ভক্তদের কাছে বিপিএল রঙিন উৎসব, কিন্তু তাঁর কাছে জাতীয় দলের উন্নতিই এখন প্রকৃত চ্যালেঞ্জ।
